রাজনীতির মহাকাব্য ও সংরক্ষিত আসনে শাকিলা ফারজানার 'হেভিওয়েট' ইমেজ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ত্যাগ আর লড়াইয়ের গল্প। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, কিংবা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি বাঁকেই বাঙালি নারী নেতৃত্বের এক নীরব অথচ শক্তিশালী ভূমিকা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন দেশজুড়ে জল্পনা—কারা হচ্ছেন সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য? এই দৌড়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পরিচিত মুখ এবং আইনি অঙ্গনের লড়াকু সৈনিক ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এখন আলোচনার শীর্ষে।
বাংলার রাজনীতিতে গত ১২৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নারীদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের সূচনালগ্ন থেকে নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নারীদের জন্য ৯টি আসন সংরক্ষিত ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে তা ১৫টি করা হয়, যা বর্তমানে ৫০-এ দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ সংসদ একটি বিশেষ কারণে ঐতিহাসিক। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবারের সংসদে 'ত্যাগী ও নির্যাতিত' নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ শতকের গোড়ায় নারীরা যেভাবে পর্দার আড়াল থেকে স্বাধিকার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মতো নেত্রীরা সেই ঐতিহ্যেরই আধুনিক রূপ।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের জ্যেষ্ঠ কন্যা শাকিলা ফারজানা কেবল বাবার পরিচয়ে নয়, বরং নিজের লড়াকু ইমেজে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে 'হামজা ব্রিগেড' নামক জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়নের মিথ্যা অভিযোগে ১০ মাস ৮ দিন কারাবরণ করেন তিনি। তবে সত্যের জয় হয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর পর; ২০২৫ সালের ১০ মার্চ আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে সসম্মানে খালাস দেন। এই কারাবরণ ও আইনি লড়াই তাকে তৃণমূলের কাছে 'অগ্নিকন্যা' হিসেবে পরিচিত করেছে।
২০০৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় শাকিলা ফারজানা বর্তমানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকায় ধানের শীষের প্রচারণায় তিনি নারীদের সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আভাস পাওয়া গেছে, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারাই এবার সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার পাবেন। সেই মানদণ্ডে শাকিলা ফারজানা এখন 'হেভিওয়েট' প্রার্থী।
চট্টগ্রাম ও হাটহাজারী বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, শাকিলা ফারজানা সংকটের সময়ে দলের পাশে ছিলেন। তাকে সংসদ সদস্য মনোনীত করলে সংসদে চট্টগ্রামের মানুষের কথা আরও বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, "দলের জন্য কাজ করেছি, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। আমার লক্ষ্য জনসেবা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দলের প্রতি আমার ত্যাগ বিবেচনা করে হাইকমান্ড যোগ্য মূল্যায়ন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ২০২৬ সাল একটি মাইলফলক। এবারের সংরক্ষিত নারী আসনে শাকিলা ফারজানার মতো উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি সংসদীয় বিতর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে। এটি কেবল একটি দলের মনোনয়ন নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে সহ্য করা রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি বড় স্বীকৃতি হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বিবিসি বাংলা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ফোরাম।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |