প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব—বাংলার রাজনীতির আকাশ বারবার মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে, আবার নতুন সূর্যোদয় দেখেছে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের দিকে। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) থেকে কে সংসদে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক জল্পনা।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) এ ভূখণ্ডের রাজনীতিতে নারীদের অধিকারের লড়াই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন—প্রতিটি মাইলফলকে নারীরা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে রাজপথে ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের আত্মত্যাগই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদীয় ব্যবস্থায় সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নতুন প্রেক্ষাপট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ১৯ শতকের গোড়ায় নারীদের রাজনীতিতে আসার যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, ২০২৬ সালের এই সংস্কারমুখী বাংলাদেশে তা অপসারিত হয়ে যোগ্যতার মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে সংসদ সদস্য হিসেবে পাঠাতে পারবে। দলটির ভেতরে এখন এই একটি আসন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এনসিপির মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বর্তমানে দু’জন নেত্রীর নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। তারা হলেন—দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)। এই দুই নেত্রীরই রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, যা তাদের মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেই হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপরই নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ২০২৬ সালের সংসদ একটি ‘রিফর্মেশন সংসদ’। এনসিপির মতো নতুন রাজনৈতিক দলগুলো যখন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে, তখন সংরক্ষিত নারী আসনে তাদের প্রার্থী নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একজন নারী সদস্য পাঠানো নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সংসদে তুলে ধরার এক সুবর্ণ সুযোগ। মনিরা শারমিন বা মাহমুদা আলমের মতো লড়াকু নেত্রীদের সংসদে পাঠানো এনসিপির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর, গুগল নিউজ আর্কাইভ (বাংলাদেশ পলিটিক্স), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এনসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |