প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অভ্যন্তরে এক শিক্ষার্থীকে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন—মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার। তারা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার দুপুরে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে গুলশান থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরমান আলী আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম জাকির হোসেন জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এই হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১২ নম্বর কক্ষে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ নিয়ে কথা বলার সময় রাজ্জাকের নির্দেশে নির্জনের ওপর হামলা চালানো হয়।
আসামি রিয়াদুল ও সায়েম তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং প্রধান আসামি রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। এতে নির্জনের নাক ও মুখের উপরিভাগ গুরুতর জখম হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে।
বাংলার ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে ১৯০০ সালের স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ছাত্ররা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে লড়েছে। তবে বিভিন্ন সময় ছাত্র নেতৃত্বের একটি অংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।
গ্রেফতারকৃত রাজ্জাক বিন সোলাইমানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অপরাধমূলক রেকর্ড নয়। এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ধরনের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনা ছিল একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়া। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হওয়ার ঘটনাগুলোকে ছাত্ররা ‘বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে। সমন্বয়করা বারবার সতর্ক করেছেন যে, সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় সংগঠন নেবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান চর্চার পবিত্র স্থান। সেখানে সুইচ গিয়ার চাকুর ব্যবহার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে এমন হামলা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। রাজ্জাকের মতো বিতর্কিত নেতৃত্বের বারবার আইনি জটিলতায় পড়া ছাত্র আন্দোলনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: গুলশান থানা পুলিশ রেকর্ড, সিএমএম আদালত প্রতিবেদন (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |