| বঙ্গাব্দ

কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মতবিনিময়: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-02-2026 ইং
  • 1889157 বার পঠিত
কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মতবিনিময়: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি |
ছবির ক্যাপশন: কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মতবিনিময়

সচিবালয় থেকে শাপলা হল—প্রশাসনিক সংস্কার ও তারেক রহমানের ‘দেশ গড়ার’ ডাক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু এই ঢাকা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে যখন কার্জন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তখন থেকেই এই অঞ্চলের সিভিল সার্ভিসের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। ১৯ শতকের সেই ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয় এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা—প্রতিটি ধাপেই সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রথমবার মতবিনিময় করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশই প্রথম ও শেষ ঠিকানা: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক আবেগঘন ও শক্তিশালী বার্তা দেন। তিনি বলেন, "আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে"। তিনি স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেন যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জনগণের বিপুল প্রত্যাশা পূরণে তাঁদের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

মেনিফেস্টো বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই

প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহায়তা চান। বিশেষ করে:

  • স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত: দেশের মৌলিক এই দুই খাতের আমূল পরিবর্তনে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

  • নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: নারীর ক্ষমতায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

  • ক্রীড়া ও সংস্কৃতি: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

  • দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ: দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আপসহীন সহযোগিতা আশা করেন।

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও পেশাদারিত্ব

প্রধানমন্ত্রী দেশ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে দাপ্তরিক ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এটি ১৯০০ সালের সেই 'অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট' থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক আধুনিক প্রশাসনিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপস্থিত উপদেষ্টা মণ্ডলী

এ সময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাগণ উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মির্জা আব্বাস

  • মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

  • হুমায়ুন কবির ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম

  • ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্দী আমিন

বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন: ২০২৬-এর নতুন প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। ২০২৬ সালের এই প্রথম মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত ‘জনগণের সরকার’ এবং ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী’দের মধ্যেকার দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে চান। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের এই অঙ্গীকার বাংলাদেশকে এক নতুন শিখরে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) মিডিয়া সেল এবং ঐতিহাসিক প্রশাসনিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency