প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানকে পুরো বিশ্বের জন্য একটি ‘মহৎ সেবা’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি চলমান সামরিক অগ্রগতির মানকে ০ থেকে ১০-এর স্কেলে ‘১৫’ বলে উল্লেখ করে একে এক ‘অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে দাবি করেন।
শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি নেতাদের ‘অসুস্থ মানুষ’ (Sick People) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপটি নেওয়া জরুরি ছিল। আমাদের এই অভিযান কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে একটি বড় সেবা।” ট্রাম্পের দাবি, তাঁর নির্দেশে পরিচালিত এই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক পরিকল্পনাকারীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত কয়েক দিনের নিবিড় হামলায় ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কার্যকর আঘাতে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও এখন অকেজো।” ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানের ফলে ইরান এখন আর আগের মতো সামরিক হুমকি হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না।
এদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে যে, তারা তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে আইআরজিসির (IRGC) কুদস ফোর্সের অন্তত ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই বিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য বহুবার পরাশক্তির রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের এই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি এবং ইসরায়েলের সরাসরি তেহরান আক্রমণ কেবল ইরানকে নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সমালোচকরা এই অভিযানকে ‘একতরফা’ বললেও ট্রাম্প একে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির এক চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, দৈনিক ইত্তেফাক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (৭ মার্চ ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |