বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের সেই সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ৮ মার্চ (২০২৬), আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাতীয় নারীশক্তি’। ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন দক্ষ ও সংগ্রামী নারীরা:
আহ্বায়ক: মনিরা শারমিন
সদস্য সচিব: ডা. মাহমুদা মিতু
মুখ্য সংগঠক: নুসরাত তাবাসসুম
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরেন: ১. হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর: তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে, জুলাই বিপ্লবের সময় যেসব নারী কণ্ঠস্বর সক্রিয় ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে হারিয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করা হবে। ২. রাজনীতি থেকে নারীদের বিচ্যুতি: জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের সম্মুখভাগ থেকে সরে আসার প্রবণতা কেন তৈরি হলো—এই দায় সংগঠনটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। ৩. সাইবার বুলিংয়ের শিকার: নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় অনেক নারী তীব্র সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, যা তাদের রাজনৈতিক পথ থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করছে।
এনসিপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের লক্ষ্য হলো:
বৈষম্যহীন নারী অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
সাইবার বুলিং প্রতিরোধে নারীদের সুরক্ষা প্রদান করা।
নারীদের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
১৯০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নারীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ বদলেছে। আজকের বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেবল কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা হতে হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ। ‘জাতীয় নারীশক্তি’-র আত্মপ্রকাশ এক তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। যদি এই সংগঠনটি সত্যিই সাইবার বুলিং মোকাবিলা এবং তৃণমূলের নারীদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে পারে, তবে তা ২০২৬ সালের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এটি যেন কেবল সাংগঠনিক প্রচারণায় আটকে না থাকে, বরং নারীর অর্থনৈতিক ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রেস রিলিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি অনুষ্ঠান প্রতিবেদন (৮ মার্চ ২০২৬) ও পালস বাংলাদেশ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিক্স।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন:বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |