নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ বিরতির পর দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন বন্ধুত্বের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফের মধ্যে এক হৃদ্যতাপূর্ণ টেলিফোন আলাপ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ, ২০২৬) ঈদের আগের দিন দুই নেতার এই ফোনালাপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত এই অঞ্চলের মুসলিম সমাজ একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে লড়াই করেছিল। যদিও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তবে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই ঈদে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলাপচারিতা সেই ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই একটি অংশ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক এক্স পোস্টে জানানো হয়েছে, শাহবাজ শরীফ তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
টেলিফোন আলাপে শাহবাজ শরীফ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন যে, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তানের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে দুই নেতার এই আলাপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উভয় নেতা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যেকোনো বিরোধ নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে উভয় রাষ্ট্রপ্রধান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্রনীতিতে এক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। ঈদের এই শুভেচ্ছা বিনিময় কেবল শিষ্টাচার নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন বার্তা।
সূত্র: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (এক্স পোস্ট), বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেস উইং, যুগান্তর এবং রাজনৈতিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান শীর্ষ পর্যায়ে এই সরাসরি যোগাযোগ দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বলয়ের বাইরে একটি নতুন বলয় তৈরির সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান এবং সংলাপের ওপর জোর দেওয়া প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |