| বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত: ঘাতক ডা. গোলাম কবীর আটক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-03-2026 ইং
  • 1461392 বার পঠিত
ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত: ঘাতক ডা. গোলাম কবীর আটক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত

ফরিদপুরে পৈতৃক গাছ নিয়ে বিবাদ: ছোট ভাইকে গুলি করে মারলেন সাবেক এমপি পদপ্রার্থী

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ডা. গোলাম কবীরের শর্টগানের গুলিতে ছোট ভাই হুমায়ুন কবির মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চতুল উত্তরপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘাতক ডা. গোলাম কবীরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

যেভাবে ঘটল এই নৃশংসতা

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চতুল উত্তরপাড়া গ্রামের পৈতৃক ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে দুই ভাই গোলাম কবীর ও মিন্টুর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ওই জমির গাছ বড় ভাই গোলাম কবীর প্রায় ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। বুধবার সকালে শ্রমিকরা গাছ কাটতে এলে ছোট ভাই মিন্টু তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ডা. গোলাম কবীর ঘর থেকে নিজের লাইসেন্স করা শর্টগান বের করে এনে ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন মৃধা জানান, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন মিন্টু রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং গোলাম কবীর পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে তাকে আটকে ফেলে।

হাসপাতালের বক্তব্য ও পুলিশি পদক্ষেপ

গুলিবিদ্ধ মিন্টুকে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আন্না সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নিহতের বুকে ও কোমরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেল) আজম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শর্টগানটি জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় ও ১৯৫০-২০২৬ প্রেক্ষাপট

অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবীর কেবল একজন চিকিৎসকই নন, তিনি জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি এবং সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

১৯৫০-এর দশকে গ্রামীণ বাংলায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে লাঠালাঠি বা দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। ১৯৭১ পরবর্তী সময়েও পারিবারিক কলহে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ছিল বিরল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ মানুষ যখন একটি অহিংস ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন ২০২৬ সালে এসে একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে আপন ভাই খুন হওয়ার ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ জমিজমা নিয়ে দাঙ্গা, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে আধুনিক মারণাস্ত্রের অপব্যবহারে।


সূত্র: ১. বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর জেলা পুলিশ (২৫ মার্চ ২০২৬)।

২. প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার।

৩. জাতীয় আর্কাইভস: ফরিদপুর অঞ্চলের ভূমি বিরোধ ও অপরাধের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency