বিশেষ সংসদীয় প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ‘গণভোট’ ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের তোলা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সংসদে দাঁড়িয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেই সাথে পার্থের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
ব্যারিস্টার পার্থ তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন—৫ আগস্টের পর কেন ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠন করা হলো না এবং পুরোনো সংবিধানে থেকে কেন তা বাতিলের চেষ্টা চলছে? এর জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হাস্যরসের ছলে বলেন:
“মাননীয় সংসদ সদস্য পার্থ বেশ কিছু ফায়ার (প্রশ্নবাণ) করেছেন, কিন্তু তাঁর নিজের অজান্তেই সেই কথাগুলো ‘ব্যাকফায়ার’ হয়ে গেছে।”
ডা. শফিক ইঙ্গিত দেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কার একটি জনদাবিতে পরিণত হয়েছে এবং একে ‘স্বাধীনতা বিরোধীদের’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক।
ব্যারিস্টার পার্থ যখন সংবিধান ছুড়ে ফেলার দাবিকে ‘স্বাধীনতা বিরোধী’ শক্তির সাথে মেলাচ্ছিলেন এবং সরকারি দলের মন্ত্রীরা তাতে হাততালি দিচ্ছিলেন, তখন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এক বিস্ফোরক তথ্য মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন:
বেগম জিয়ার ঘোষণা: “বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছিলেন—যখন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।”
মন্ত্রীদের অপমান: হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা যে মন্ত্রীরা দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সাথে রাজনীতি করেছেন, তারা কি আজ পার্থের বক্তব্যে হাততালি দিয়ে নিজেদের নেত্রীকে (বেগম জিয়া) অপমান করলেন না?
আরও পড়ুন:
‘জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, রাস্তার সংস্কারে নয়’: সংসদে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
ব্যারিস্টার পার্থের মূল প্রশ্ন ছিল—বিপ্লবের পর কেন নতুন সংবিধান তৈরির পথে না গিয়ে পুরোনো আইনি কাঠামোতে থাকা হলো? বিরোধী দলীয় বেঞ্চ থেকে এর জবাবে বলা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার ও পার্লামেন্ট একটি ‘ট্রানজিশনাল’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পুরোনো সংবিধানের জীর্ণ দশা থেকে মুক্তিই প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষ বিশ্লেষণ:
‘সংবিধান কি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?’: ব্যারিস্টার পার্থের মূল বক্তব্য পড়ুন।
সংসদের আজকের এই বিতর্ক প্রমাণ করে যে, চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে সংবিধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্টত দুটি ভাগে বিভক্ত। একদিকে ‘বাহাত্তরের সংবিধান’ রক্ষার আবেগ, অন্যদিকে ‘নতুন জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের লড়াই এখন রাজপথ ছাড়িয়ে খোদ জাতীয় সংসদকেও কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়: ৩১ মার্চ ২০২৬-এর ত্রয়োদশ সংসদের কার্যবিবরণী।
জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেল: বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও।
বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদীয় বিতর্ক ও সংবিধান সংস্কারের আইনি দিক বিশ্লেষণ।
গুগল নিউজ বাংলাদেশ: ৩১ মার্চ ২০২৬-এর সংসদীয় ব্রেকিং নিউজ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |