বিশেষ বিনোদন প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ফিল্ম এনালিস্ট)
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: ৩ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। প্রতিবছর এই দিনটি চলচ্চিত্র কর্মীদের পুনর্মিলনীতে উৎসবমুখর হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৬ সালে এসে তা পরিণত হয়েছে এক বিষাদময় অভিজ্ঞতায়। নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী আজ এফডিসিতে গিয়ে যে তিক্ততার মুখোমুখি হয়েছেন, তা কেবল তার একার অপমান নয়, বরং পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ‘কেপিআই’ (KPI) ভুক্ত এলাকায় বহিরাগতদের পেশীশক্তি প্রদর্শনের এক নগ্ন রূপ।
ওমর সানী যখন এফডিসিতে প্রবেশ করেন, তখন তিনি নিজের অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘চাঁদের আলো’র ব্যানার দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: নব্বইয়ের দশকে এফডিসি ছিল শিল্পীদের তীর্থস্থান। নায়ক রাজ রাজ্জাক, আলমগীর, উজ্জ্বল কিংবা ইলিয়াস কাঞ্চনদের পদচারণায় মুখর এই প্রাঙ্গণে তখন বহিরাগতদের প্রবেশ ছিল কল্পনাতীত। ওমর সানীর মতো জনপ্রিয় নায়করা তখন এফডিসিতেই জীবন কাটাতেন।
বর্তমান বিচ্যুতি: ২০২৬ সালে এসে সেই নিরাপদ আশ্রয়ে দেখা যাচ্ছে ‘শোডাউন’ আর ‘পলিটিক্যাল কালচার’। ওমর সানীর অভিযোগ অনুযায়ী, এমডির কক্ষে প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের প্রবেশ এবং কেপিআইভুক্ত এলাকায় জটলা সৃষ্টি করা প্রমাণ করে যে, এফডিসি এখন আর শিল্পীদের সৃজনশীলতার জায়গা নেই, বরং এটি শক্তিমত্তার মহড়ায় পরিণত হয়েছে।
ওমর সানী আশা করেছিলেন সেখানে কিংবদন্তি অভিনেতা উজ্জ্বলসহ অনেক সিনিয়রকে পাবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিশ্লেষণ: যখন একটি ইন্ডাস্ট্রির মূল কারিগর বা সিনিয়ররা অনুপস্থিত থাকেন এবং সামনের কাতার দখল করে রাখে বহিরাগতরা, তখন বুঝতে হবে সেই ইন্ডাস্ট্রির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। শিবা শানুর মতো শিল্পীরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বহিরাগতদের হটিয়ে শিল্পীদের জায়গা করে দিতে না পারাটা এক চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এটি মূলত গত এক দশকের এফডিসি কেন্দ্রিক অপরাজনীতিরই ধারাবাহিকতা।
ভিডিও বার্তার শেষে ওমর সানীর একটি বাক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল—“বাইরে থেকে এসে আমাদের খাবলিয়ে বা চিমটি কাটা ঠিক না।” * তুলনামূলক আলোচনা: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে, কিন্তু কখনোই প্রকৃত শিল্পীদের এভাবে কোণঠাসা হতে হয়নি। আজ যখন একজন সিনিয়র শিল্পী নিজের আঙিনায় নিজেকে ‘পরবাসী’ মনে করেন, তখন বুঝতে হবে চলচ্চিত্রের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস কেবল কেক কাটা বা লাইভ ভিডিওর জন্য নয়। এটি হওয়া উচিত ছিল আগামী দিনের সিনেমার পরিকল্পনা নিয়ে বসার দিন। কিন্তু ওমর সানীর মতো সিনিয়রদের অপমানিত হয়ে ফিরে যাওয়া সাধারণ চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এফডিসিতে যদি শিল্পীদের সম্মান না থাকে, তবে সাধারণ দর্শক কেন হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে?
| সংকটের ক্ষেত্র | বর্তমান চিত্র (৩ এপ্রিল ২০২৬) | করণীয় ও সমাধান |
| নিরাপত্তা | কেপিআই এলাকায় বহিরাগতদের শোডাউন। | কঠোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও আইডি কার্ড ব্যবস্থা। |
| জ্যেষ্ঠতা | কিংবদন্তি শিল্পীদের অনুপস্থিতি ও অবজ্ঞা। | সিনিয়র শিল্পীদের সম্মানের সাথে আমন্ত্রণ ও অংশগ্রহণ। |
| পরিবেশ | শোডাউন ও রাজনৈতিক প্রভাব। | এফডিসিকে কেবল ‘সৃজনশীল জোন’ হিসেবে ঘোষণা। |
| নেতৃত্ব | এমডির কক্ষে বিশৃঙ্খলা। | প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ও জবাবদিহিতা। |
ওমর সানীর এই আক্ষেপ আজ প্রতিটি চলচ্চিত্র প্রেমীর আক্ষেপ। আমরা চাই না এফডিসি কোনো বহিরাগত বা রাজনৈতিক শোডাউনের কেন্দ্রবিন্দু হোক। শিল্পীদের আঙিনা শিল্পীদের হাতেই থাকুক। ৩ এপ্রিলের এই ঘটনাটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’। যদি এখনই এফডিসির সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে ‘চাঁদের আলো’র মতো কালজয়ী সিনেমা তো দূরে থাক, শিল্পীদের সম্মানটুকুও ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |