বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
লক্ষ্মীপুর, ৪ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণভোমরা ‘খাল খনন’ কর্মসূচি আবারও স্বরূপে ফিরেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাফিলাতলি বাজার এলাকায় ১২.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সি-খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে খাল খনন বিপ্লব শুরু করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই অসমাপ্ত কাজই এখন সমাপ্ত করা হবে।
বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসে ‘খাল খনন’ শব্দটি অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামের সাথে।
বিবর্তনের ধারা: ১৯৭৮ সালে যখন দেশে খাদ্য সংকট এবং সেচ ব্যবস্থার অভাব ছিল, তখন জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে স্বয়ং মাঠে নেমেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।
২০২৬-এর পুনর্জাগরণ: দীর্ঘ ৪৮ বছর পর (সর্বশেষ ১৯৭৮-এ খনন হওয়া) লক্ষ্মীপুরের এই ‘সি-খাল’ পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি কেবল মাটি কাটা নয়, বরং শহীদ জিয়ার সেই ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার দর্শনকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তাঁর বক্তব্যে একটি রূঢ় সত্য তুলে ধরেছেন—খালের মাঝখানে গড়ে ওঠা দোকান ও বাড়িঘর।
বিশ্লেষণ: বিগত দশকগুলোতে খালের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কলকারখানার বর্জ্য ফেলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, খালের প্রবাহ কোনো বাধাই মানবে না। এটি কেবল জনগণের চাওয়া নয়, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার দাবি। যদি জিয়ার সেই বিপ্লব অব্যাহত থাকত, তবে আজকের এই জলাবদ্ধতা ও দখলদারিত্বের সংকট তৈরি হতো না।
১২.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনঃখনন করা হলে লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
কৃষি ও জলাবদ্ধতা: এই অঞ্চলের কৃষি জমিগুলো দীর্ঘকাল ধরে জলাবদ্ধতার শিকারে পরিণত হয়েছিল। খালটি খনন সম্পন্ন হলে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে, যা স্থানীয় কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব’ এবং ‘জিয়ার আদর্শ’—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। খালের মাঝখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের গতিপথ ফিরিয়ে আনা হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে এই বিপ্লব সফল হলে তা কেবল লক্ষ্মীপুর নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ |
| প্রকল্পের নাম | সি-খাল (১২.৬ কিলোমিটার) পুনঃখনন। |
| প্রধান অতিথি | শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (পানিসম্পদ মন্ত্রী)। |
| ব্যয় নির্ধারণ | ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। |
| উপকারভোগী | ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ (সদর ও রায়পুর)। |
| ঐতিহাসিক যোগসূত্র | সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়া এটি খনন করেছিলেন। |
১. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির উদ্বোধনী বক্তব্য (৩ এপ্রিল ২০২৬)।
২. লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর: নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানের টেকনিক্যাল রিপোর্ট।
৩. বিডিএস পলিটিক্যাল ডেস্ক: শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি ও আধুনিক বাংলাদেশের কৃষি বিবর্তন বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |