অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এনার্জি এনালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বা জীবনরেখা বলা হয় হরমুজ প্রণালিকে। আজ সোমবার সকালে সেই লাইফলাইনে ট্রাম্পের ‘আলটিমেটাম’ এক প্রলয়ংকরী কম্পন সৃষ্টি করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬% বেড়ে ১১০.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিপরীতে ইরান কুয়েত, আমিরাত ও বাহরাইনের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে জানান দিচ্ছে, তারা সহজে দমবার পাত্র নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অশালীন ভাষা ও চরম হুমকির রাজনীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় মার্কিন ইতিহাসের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ (Madman Theory)-কে। নিক্সন যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় শত্রু পক্ষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি যেকোনো সময় পারমাণবিক হামলা করতে পারেন, ট্রাম্পও আজ ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দিয়ে সেই একই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ খেলছেন।
ঐতিহাসিক তুলনা: ১৯৭৪ সালে কিসিঞ্জার যখন বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন, তখনো মার্কিন নীতি ছিল অবজ্ঞার। আজ ২০২৬-এ ট্রাম্প সেই একই দম্ভ নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই অঞ্চলের মানুষ—সেটি বাঙালি হোক বা ইরানি—চাপের মুখে মাথানত করে না।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। এখানে বিঘ্ন ঘটার অর্থ হলো বাংলাদেশের মতো দেশে বিদ্যুৎ ও পরিবহণ খরচ আকাশচুম্বী হওয়া।
বিবর্তনের ধারা: ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের (Yom Kippur War) সময় যেভাবে তেল অবরোধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল, ২০২৬-এর এই সংকট তার চেয়েও ভয়াবহ। কারণ এখন ইরান সরাসরি মার্কিন মিত্রেদের (কুয়েত, আমিরাত) স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।
প্রভাব: আমরা বাংলাদেশি হিসেবে ‘এক পা এক পা’ করে যে মধ্যম আয়ের দেশের পথে আগাচ্ছিলাম, তেলের এই অস্বাভাবিক দাম আমাদের সেই চাকা থামিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সরাসরি এই জ্বালানি সংকটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) বলছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানবে।
রণকৌশল: এটি অনেকটা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেই গেরিলা কৌশলের মতো, যেখানে বৃহৎ শক্তির প্রযুক্তিকে স্থানীয় ছোট ছোট গোপন হামলা দিয়ে পরাস্ত করা হয়েছিল। কমান্ডো মাসউদ জারেই-এর মৃত্যুর পর ইরান এখন বেপরোয়া। তারা জানে, আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তাদের বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থা।
রোববার রাশিয়া ও সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেকপ্লাস উৎপাদন সামান্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা ‘সমুদ্রে শিশিরবিন্দুর’ মতো।
বিশ্লেষণ: যুদ্ধের কারণে অনেক সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। রাশিয়া নিজেও এই উত্তেজনায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়া থেকে লাভবান হতে চাইছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ট্রাম্প যদি সত্যিই মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালান, তবে মধ্যপ্রাচ্য কেবল নয়, পুরো বিশ্বই এক দীর্ঘস্থায়ী ‘অন্ধকার যুগে’ প্রবেশ করবে। তেলের দাম ১২০ ডলার স্পর্শ করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে আমরা যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, তেলের এই আগুন আমাদের সেই অর্জনকে যেন পুড়িয়ে না দেয়।
| প্যারামিটার | বর্তমান অবস্থা (১২:৫৩ PM) | ঐতিহাসিক তুলনা |
| ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম | ব্যারেলপ্রতি ১১০.৮৫ ডলার | ১৯৭৩ ও ২০০৮-এর মহা-সংকটের অনুরূপ। |
| ট্রাম্পের আলটিমেটাম | মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়। | নিক্সনের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’। |
| ইরানি পাল্টা হামলা | কুয়েত, আমিরাত ও বাহরাইনে হামলা। | ভিয়েতনামের গেরিলা কৌশল। |
| ওপেকপ্লাস উৎপাদন | ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধি (অকার্যকর)। | সাপ্লাই-চেইন কোলাপ্স। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |