| বঙ্গাব্দ

ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট: অনুমতি ছাড়াই দাম বাড়াল মালিক সমিতি।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-04-2026 ইং
  • 2654542 বার পঠিত
ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট: অনুমতি ছাড়াই দাম বাড়াল মালিক সমিতি।
ছবির ক্যাপশন: ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট

ভোজ্যতেলের বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ রাজত্ব: সরকারকে তোয়াক্কা না করেই দাম বাড়াল মালিক সমিতি

অর্থনীতি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মার্কেট এনালিস্ট)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভোজ্যতেল সিন্ডিকেট। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ৫-৬টি বড় কোম্পানি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার থেকে সয়াবিন তেলের বোতল উধাও করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মিলমালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।

১. লিটারে ৩৪ টাকা বাড়তি গুনছেন ক্রেতারা

সরকার নির্ধারিত খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৭৬ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ ভোক্তাদের কাছ থেকে লিটারে ৩৪ টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ ও বাড্ডা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এক লিটারের বোতলজাত তেল বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও। ৫ লিটারের বোতল কিছু জায়গায় পাওয়া গেলেও তার দাম রাখা হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ৯৫৫ টাকার চেয়ে অনেক বেশি।

২. মালিক সমিতির ‘চাপ’ ও হুঁশিয়ারি

মালিক সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে তারা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় তারা লোকসান গুনছে। তবে কোম্পানিগুলো সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নতুন মূল্য কার্যকর না হলে তারা সরবরাহ শুরু করবে না।

৩. র‌্যাবের অভিযান ও অস্বাভাবিক মজুত উদ্ধার

এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বুধবার সারা দেশে ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করেছে র‍্যাব। এ সময় অসাধু ব্যবসায়ীদের মোট ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

৪. ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন এই পরিস্থিতির জন্য বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করেছেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বর্তমান দামই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী রোববার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে মন্ত্রণালয়।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশেও যদি ৫-৬টি কোম্পানি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে, তবে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে। সিন্ডিকেটের কাছে সরকারের এই ‘নতি স্বীকার’ করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন স্মার্ট ইকোনমির কথা বলছি, তখন বাজার ব্যবস্থাপনায় এমন বিশৃঙ্খলা চরম হতাশাজনক। কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই তেল-সন্ত্রাস থামানো সম্ভব নয়।


ভোজ্যতেলের প্রস্তাবিত বনাম বর্তমান দাম (এক নজরে)

পণ্যের ধরণবর্তমান নির্ধারিত দাম (টাকা)মালিক সমিতির প্রস্তাবিত দাম (টাকা)খুচরা বাজারে বর্তমান চিত্র
১ লিটার বোতল১৯৫২০৭বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
৫ লিটার বোতল৯৫৫১,০২০সরবরাহ সীমিত।
খোলা সয়াবিন১৭৬১৮৫২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাম অয়েল১৬৪১৭৭সংকট চরমে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency