লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি
সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ২:৩০
মধ্যপ্রাচ্যের ‘লাইফলাইন’ খ্যাত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ কার্যকর হতে শুরু করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবরোধের ফলে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৩৪৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে কেবল ইরান নয়, বৈশ্বিক তেল ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকির মতে, প্রতিদিনের এই বিশাল ক্ষতির বড় অংশই আসবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য থেকে। অবরোধের ফলে ইরান দৈনিক প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রকৃত ক্ষতি নির্ভর করবে তারা কতটা বিকল্প রুট (যেমন জাস্ক টার্মিনাল) ব্যবহার করতে পারে এবং মার্কিন নৌবাহিনী কতটা কঠোরভাবে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার ওপর।
এই অবরোধ কেবল ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার লক্ষ্যেই নয়, বরং বেইজিংকে চাপে ফেলার একটি বড় চাল। চীনের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪৫–৫০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই সরবরাহ ব্যাহত হলে চীনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে, যা ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের ওপর বাড়তি সুবিধা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা যতটা শক্তিশালী, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তার চেয়েও বেশি।
নৌবাহিনীর ঘাটতি: মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থাকলেও পারস্য উপসাগরে সরাসরি কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই।
বিপুল যানজট: হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন এত বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে যে, সবগুলোকে নিয়ন্ত্রণ বা আটক করা প্রায় অসম্ভব।
ভাসমান তেল: কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ১৫ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা দিয়ে তারা স্বল্পমেয়াদী ক্ষতি সামাল দিতে পারে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ট্রাম্পের এই ‘নেভাল ব্লকেড’ কার্যত একটি সামরিক অভিযানের সমান। এটি খার্গ দ্বীপ দখলের মতো সরাসরি যুদ্ধ না করেও ইরানকে তেলের বাজারে কোণঠাসা করার একটি স্মার্ট কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। যদি এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
| বিষয় | পরিসংখ্যান / প্রভাব |
| ইরানের দৈনিক মোট ক্ষতি | ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার। |
| রপ্তানি আয় হ্রাস | ২৭৬ মিলিয়ন ডলার (তেল ও কেমিক্যাল)। |
| চীনে তেল সরবরাহ ঝুঁকি | ৪৫–৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল। |
| সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ | হরমুজ প্রণালির বিপুল জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ। |
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে এই অবরোধ সফল হবে নাকি ইরান তাদের ‘অপ্রকাশিত সক্ষমতা’ দিয়ে এটি রুখে দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ বিশ্বকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই বিশাল সমুদ্রসীমায় সফলভাবে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে পারবে? কমেন্টে আপনার যুক্তি জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |