লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা
সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ১:১৫
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত নিরসনে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে পুতিন প্রশাসন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ক্রেমলিন এক আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে জানিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বৈরিতা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তেহরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নিতে প্রস্তুত রাশিয়া। তবে এই প্রস্তাব আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মস্কো টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতিপূর্বেও এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাশিয়ার যুক্তি হলো—ইরানের ইউরেনিয়াম যদি রাশিয়ার কাছে থাকে, তবে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো আশঙ্কাই থাকবে না। এতে করে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট দূর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) জানিয়েছে, সোমবার পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে এক ফোনালাপে এই বিষয়টি আলোচিত হয়। কিন্তু ট্রাম্প রাশিয়ার এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নয়, বরং ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের বর্তমান অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে প্রয়োজনে স্থলপথে সেনা পাঠাতেও দ্বিধা করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘ব্লকেড’ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি ছিল মূলত ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে একটি ‘সেভ-ফেস’ বা মানরক্ষার উপায়। কিন্তু ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে যে, এবারের যুদ্ধে আমেরিকার লক্ষ্য কেবল ইরানকে থামানো নয়, বরং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সমূলে উপড়ে ফেলা। ২১ এপ্রিলের মধ্যে কোনো সমাধান না এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি এখন শতভাগ।
| পক্ষ | অবস্থান ও প্রস্তাব |
| রাশিয়া | ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মস্কোর হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তাব। |
| যুক্তরাষ্ট্র (ট্রাম্প) | প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান; ইউরেনিয়ামের সরাসরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণ দাবি। |
| ইরান | সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সম্মতি। |
| সবচেয়ে বড় ঝুঁকি | স্থলপথে মার্কিন সেনা অভিযান ও স্থায়ী নৌ-অবরোধ। |
পুতিনের প্রস্তাবে ট্রাম্পের ‘না’ এবং ইরানের ৫ বছরের ডেডলাইন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে অনড় অবস্থানে রয়েছে, তাতে দ্বিতীয় দফার ইসলামাবাদ বৈঠকের আগেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন রাশিয়ার প্রস্তাবে ট্রাম্পের রাজি হওয়া উচিত ছিল? নাকি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই আমেরিকার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত? কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |