প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ—দেশের আইনের উৎস এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এক অভাবনীয় দাবি তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বাংলাদেশে প্রচলিত ‘মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা’ করে পবিত্র কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মুজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান’ কথাটি খোদাই করা আছে। সুতরাং, এ দেশের আইনের মূল উৎস হওয়া উচিত আল-কুরআন। তিনি যুক্তি দেখান যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ যেহেতু কুরআনে বিশ্বাসী, তাই কুরআনের বিধান চালু করা তাদের গণতান্ত্রিক দাবি।
মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে বলেন, এই দলগুলো একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও সংসদে ‘কুরআনের একটি আইনও’ পাস করেনি। সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাদের দায়িত্ব হলো নামাজ কায়েম করা এবং যাকাত ব্যবস্থা চালু করা। কেন আজ পর্যন্ত যাকাতের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করা হলো না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সরাসরি জবাবদিহি দাবি করেন।
দেশে ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ইসলামী বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন এই এমপি। তার মতে, সংসদে থাকা মাদ্রাসাশিক্ষিত সদস্য, বিভিন্ন মাজহাবের আলেম এবং আহলে হাদিস আলেমদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা যেতে পারে, যারা আইনি কাঠামো সংস্কারে ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে তিনি সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, ব্যভিচার এবং টেন্ডারবাজির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মনে করেন, মানুষের তৈরি আইন দিয়ে এই অনাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং কুরআনের কঠোর বিধানই পারে সমাজকে শান্তিতে রাখতে।
মুজিবুর রহমানের এই দাবি এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ব ও দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে:
রূপপুর দুর্নীতি ও নৈতিকতা: যখন সংসদে আইনের নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ এবং দুদকের ধীরগতি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের ওপর মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলছে।
সাফল্যের বিজ্ঞান ও দর্শন: ব্রুস লির সেই অমোঘ দর্শন—"কেবল কথায় নয়, প্রয়োগে বিশ্বাসী হওয়া"—জামায়াত নেতার এই দাবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি কেবল আইন চালুর প্রস্তাবই দেননি, বরং তা প্রয়োগের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলেছেন।
উপসংহার: ১৯০৫ থেকে ২০২৬—ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্ম ও আইনের সমন্বয় একটি সংবেদনশীল ইস্যু। মুজিবুর রহমানের এই দাবি সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন, অন্যদিকে ধর্মীয় বিধানের পূর্ণ প্রয়োগ—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা ত্রয়োদশ সংসদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় (২৯ এপ্রিল অধিবেশন), আল-কুরআন (সূরা হজ), এবং সংসদীয় আর্কাইভ। প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |