| বঙ্গাব্দ

ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট দেখে নিজের মূল সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলাম: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-05-2026 ইং
  • 5303 বার পঠিত
ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট দেখে নিজের মূল সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলাম: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করিনি, ভুয়া সনদ দেখে নিজেরটাই ছিঁড়ে ফেলেছিলাম’: সংসদে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক | ০৩ মে ২০২৬

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের পর ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট এবং রাজাকারের সন্তানদের মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহারের প্রবণতা দেখে ঘৃণাভরে নিজের অরিজিনাল সার্টিফিকেটটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করিনি। দেশ স্বাধীনের লড়াই ছিল নিঃস্বার্থ।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

১. সনদ ছিঁড়ে ফেলার নেপথ্য কারণ

সংসদে নিজের স্মৃতিকথা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “যুদ্ধের পর একদিন কলেজে ভর্তি হতে আসা এক মেয়ের হাতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখলাম, অথচ আমি জানতাম তার বাবা ছিল একজন চিহ্নিত কোলাবোরেটর (রাজাকার)। সেই দৃশ্য দেখে আমার মনে তীব্র ঘৃণার জন্ম হলো। সেদিনই আমি নিজের মূল সনদটি ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। আমি মনে করি, দেশের জন্য লড়াই করাটা দায়িত্ব, এর বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করা উচিত নয়।”

২. বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও শহীদ জিয়ার আদর্শ

বিএনপি প্রতিষ্ঠার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের একমাত্র জীবিত সাক্ষী হিসেবে নিজেকে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিষ্ঠার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে রমনার বটমূলে আমি আজও বেঁচে আছি। শহীদ জিয়া মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যে বিএনপির ঘোষণা করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে প্রকাশ করলে চলবে না, তাঁর আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই তা প্রমাণ করতে হবে।”

৩. জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে এই আন্দোলনকে নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই বিজয় কোনো একক ব্যক্তির বা দলের নয়। এটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।”

৪. ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের লড়াই

তিনি আরও বলেন, আজ যারা সংসদে আছেন তাদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মী এই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য অকাতরে লড়াই করেছেন। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।


উপসংহার:

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্য সংসদে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে নিজের মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘প্রকৃত দেশপ্রেম’ বনাম ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’র মধ্যকার পার্থক্যকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।


তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রেস উইং ও সংসদীয় কার্যবিবরণী।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency