প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের একজন সিকিউরিটি গার্ডকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের রাজনৈতিক আদর্শ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। শনিবার (২ মে) এই কমিটির তালিকা প্রকাশ্যে এলে দেখা যায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়া নামের একজনের নাম রয়েছে, যিনি আদতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। জুলহাস মিয়া বর্তমানে কার্জন হলের প্রধান ফটকে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত আছেন。
পদ পাওয়া জুলহাস মিয়া জানান যে, দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি একটি ‘সম্মানসূচক’ পদ চেয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে ২০১৭ সালে তিনি কার্জন হলে চাকরিতে যোগ দেন এবং ছয় মাস আগে ঢাকা মহানগর পূর্বের সহসভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি বিতর্কিত হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, কমিটিতে থাকা জুলহাস মিয়া তিনিই কি না, সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার দাবি করেছেন, তারা জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না。 তিনি আরও জানান, পদপ্রত্যাশী হিসেবে জুলহাস একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। ঢাকা মহানগর পূর্বের সহসভাপতি মো. আক্তার হোসেন সিভি গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও পেশাগত পরিচয় জানেন না বলে জানিয়েছেন。
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড ও আদর্শিক বিবর্তন ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মোড় পার করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজ ছিল অগ্রসেনানী। তখন মেধা ও ত্যাগের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারিত হতো।
মুক্তিযুদ্ধ ও ছাত্র শক্তি (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে ছাত্র সমাজ মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন ছাত্র রাজনীতি ছিল সরাসরি অধিকার আদায়ের হাতিয়ার।
গণতন্ত্র ও ছাত্র সংসদ (১৯৯০-২০০৬): ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরাচার এরশাদের পতনে ছাত্র সমাজ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তবে পরবর্তী সময়ে ছাত্রত্ব না থাকা ব্যক্তিদের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে আসার সংস্কৃতি শুরু হয়, যা আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু。
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর সংস্কার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছাত্র রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের দাবি তোলে。 ২০২৫ এবং বর্তমান ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন ছাত্র রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযান চাইছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর ছাত্রদলের পদে আসা সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে。
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের লড়াকু ছাত্র রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটটি এক বড় ধরনের অবক্ষয়কে চিহ্নিত করে। যখন একজন অছাত্র এবং সরকারি কর্মচারীকে একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়, তখন তা মেধাবী ও ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। ২০২৬ সালের সংস্কারমুখী বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনা ছাত্র রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করেছে।
সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (মূল সংবাদ ও বিশ্লেষণ সূত্র)। ২. ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার বিজ্ঞপ্তি (৪ এপ্রিল, ২০২৬)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |