প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের মে মাসের এই উত্তাল সময়ে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর ঢেউ আছড়ে পড়ছে বেইজিংয়ের নীতি-নির্ধারণী টেবিলেও। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুমের মতে, এই যুদ্ধ চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চীনের এই জটিল কূটনৈতিক অবস্থানের নেপথ্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।
অধ্যাপক সেলুমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীন এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে কারণ এর পরিণতি বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। তবে চীন ইরানকে সম্পূর্ণ একা ছেড়ে দিতেও নারাজ। এর মূল কারণগুলো হলো:
মার্কিন আধিপত্য রোধ: চীন চায় না বিশ্বব্যবস্থায় এমন চিত্র তৈরি হোক যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।
নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো: চীন ইতোমধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাবে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানকে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টায় ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।
পর্দার আড়ালের সহযোগিতা: সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম না দিলেও চীন ইরানকে কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কিছু চীনা কোম্পানি ইরানকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে।
সংক্ষেপে, চীন সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও কূটনৈতিক ও কারিগরি পন্থায় ইরানের পাশে থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই মেরুকরণ বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের সংগ্রাম এবং বৈদেশিক নীতির বিবর্তন পরাশক্তিগুলোর এই প্রভাব বলয় থেকে মুক্ত থাকারই এক ধারাবাহিক ইতিহাস।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও দেশভাগ (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এই অঞ্চলের মানুষ প্রথম বৈশ্বিক রাজনীতির কৌশলী চাল বুঝতে শুরু করে। ব্রিটিশদের 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতি যেভাবে এই জনপদকে প্রভাবিত করেছিল, বর্তমানের বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থানও তেমনি ছোট দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ।
মুক্তিযুদ্ধ ও পরাশক্তির ভূমিকা (১৯৭১): ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও বিশ্ব ছিল দ্বিধাবিভক্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে যে 'মুক্তি' ও 'স্বাধীনতা'র ডাক দিয়েছিলেন, তা ছিল সকল প্রকার বৈদেশিক শোষণ ও প্রভাব থেকে মুক্তির অঙ্গীকার। সে সময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
গণতন্ত্র ও ২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশ: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ভারসাম্যের রাজনীতিতে জোর দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং চীনের অবস্থান বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বৈশ্বিক সংকটে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলো সবসময়ই নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। অধ্যাপক সেলুমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের বর্তমান কৌশলটি হলো 'ঝুঁকি কমিয়ে প্রভাব বজায় রাখা'। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক সংস্কারমুখী সময় পর্যন্ত আমাদের মূল শিক্ষা হলো—বৈশ্বিক শক্তির এই লড়াইয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
সূত্র: ১. আল জাজিরাকে দেওয়া অধ্যাপক মুহানাদ সেলুমের সাক্ষাৎকার (মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)। ৩. আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমসাময়িক সমীক্ষা (২০২৬)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |