| বঙ্গাব্দ

ইরানের ৯০% ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-05-2026 ইং
  • 19943 বার পঠিত
ইরানের ৯০% ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ইরানের ৯০% ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার: ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ হামলাগুলো কাটিয়ে উঠে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মূল তথ্যসমূহ

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের বর্তমান সামরিক অবস্থার চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ঘাঁটির সচলতা: ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশই বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

  • সুরক্ষিত মিসাইল সিটি: ইমাদ ও খেইবার শেকান-এর মতো দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গভীর সুড়ঙ্গ বা 'মিসাইল সিটি'-তে রাখা হয়েছে, যা বড় ধরনের আকাশপথের হামলাতেও প্রায় অক্ষত রয়েছে।

  • দ্রুত মেরামত: ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামান্য কিছু অংশ ইরান অত্যন্ত দ্রুত মেরামত করে ফেলেছে এবং তাদের কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা এখন আগের চেয়েও বেশি সুসংহত।

  • কৌশলগত পরিবর্তন: হামলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের কৌশলগত অবস্থানেও আধুনিক পরিবর্তন এনেছে।


মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তির বিবর্তন: ১৯০০ থেকে ২০২৬

ইরানের এই দ্রুত সামরিক ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি অংশ।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও পারস্যের অবস্থা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে পারস্য (বর্তমান ইরান) ছিল অনেকটা দুর্বল এবং বৈদেশিক শক্তির প্রভাবাধীন। তখন আধুনিক সামরিক অবকাঠামো বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

  • বিপ্লব ও স্বনির্ভরতার পথে (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সাল পরবর্তী সময় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান তার সামরিক বাহিনীকে স্বনির্ভর করার ওপর জোর দেয়। বিশেষ করে ইরাক-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

  • ২০২৪-এর সংঘাত ও ২০২৬-এর বাস্তবতা: ২০২৪ সালের ভয়াবহ হামলার পর ধারণা করা হয়েছিল ইরানের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মে মাসে দেখা যাচ্ছে, ইরান কেবল তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধারই করেনি বরং পেন্টাগন ও পশ্চিমা বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

  • ২০২৬-এর প্রেক্ষিত: ১৯০০ সালের সেই ঘোড়সওয়ার বাহিনীর আমল থেকে ২০২৬ সালের 'মিসাইল সিটি' ও আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগ—ইরানের এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে বাইরের চাপ সত্ত্বেও তাদের সামরিক কৌশলে কোনো শিথিলতা আসেনি।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো জাতির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দৃঢ়তা তার টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন সামরিক সক্ষমতা—ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করা এবং তেহরানের 'দাঁতভাঙা জবাব' দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এই অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতাকেও বিশ্বদরবারে প্রমাণ করেছে।


সূত্র: ১. নিউইয়র্ক টাইমস ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সামরিক আপডেট (১৩ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বিবর্তন ও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency