প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) বরগুনা শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলা’র উদ্বোধনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে কৃষকদের জন্য সরকারের গৃহীত বেশ কিছু কল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন:
১০ ধরনের সুবিধা: নতুন এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা সার, বীজ ও সেচসহ মোট ১০টি বিশেষ সুবিধা সরাসরি লাভ করবেন।
কৃষিঋণ মওকুফ: কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতিমধ্যেই মওকুফ করা হয়েছে।
খাল খনন কর্মসূচি: খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় জোরালোভাবে হাতে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ভিক্ষমুক্ত বাংলাদেশ: চিফ হুইপ দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, সরকার আর ‘চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ’ দেখতে চায় না; বরং লক্ষ্য হলো দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত করা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৬ মে পর্যন্ত চলা এই মেলায় কৃষি বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
বরগুনার এই কৃষি মেলা এবং কৃষক কার্ডের ঘোষণা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিবর্তনের একটি দর্পণ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে এ অঞ্চলের কৃষি ছিল মূলত জমিদারি প্রথা ও নীল চাষের অবশেষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তখন কৃষকদের নিজস্ব কোনো পরিচয় বা ‘কার্ড’ ছিল না; বরং তারা ছিল শোষিত। ১৯০০ সালের সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত সময় থেকে ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি—এক বিশাল রূপান্তর।
জিয়াউর রহমানের কৃষি বিপ্লব ও খাল খনন (১৯৭৬-১৯৮১): সত্তরের দশকের শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামগঞ্জে গিয়ে খাল খনন ও স্বনির্ভর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। ১৯০০ সালের পর থেকে এটি ছিল কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলন। ২০২৬ সালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যে সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর কৃষি সংস্কার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে প্রতিটি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মে মাসে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি সুবিধা পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই লাঙল-জোয়ালের কৃষি থেকে ২০২৬ সালের এই ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা’র যুগে পৌঁছে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল ডেটাবেজ ও স্মার্টিং ফার্মিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এই নতুন সরকার কৃষিকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
ইতিহাস সাক্ষী, যে দেশ তার কৃষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিতে পেরেছে, সেই দেশই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। ১৯০০ সালের সেই মহাজনদের শোষণ থেকে ২০২৬ সালের এই সরকারি সহায়তা ও কার্ড প্রথা—বাংলাদেশের কৃষকদের অধিকার আদায়ের এক দীর্ঘ সংগ্রাম। বরগুনার উপকূলে দাঁড়িয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির এই ঘোষণা ২০২৬ সালের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক হতে পারে। তবে কার্ডের সুবিধা যাতে প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: ১. বরগুনা শিল্পকলা একাডেমিতে কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্য (১৪ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের কৃষি সংস্কার ও খাদ্য নিরাপত্তার বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |