মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬: বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) খালাস ও ব্যবহারের জন্য আরও ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (US Department of the Treasury)। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং চীন যেন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে কম দামে এই রুশ তেল একচেটিয়া মজুত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা যাবে।
তবে ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞার ছাড় বা কড়াকড়ির ওপর ভারতের তেল আমদানি পলিসি মোটেও নির্ভর করে না; নিজেদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক লাভের কথা চিন্তা করেই ভারত রাশিয়া থেকে ডিসকাউন্টে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা (G7)। তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে মার্কিন প্রশাসন মাঝেমধ্যেই বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স (General License) জারি করতে বাধ্য হয়।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া আগের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, সোমবার (১৮ মে ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নতুন করে এই ৩০ দিনের লাইসেন্স বা ছাড়পত্র জারি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোর কাছে যেন তেল পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়, সেজন্যই এই ৩০ দিনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট (Firstpost)-এর প্রতিবেদন এবং বৈশ্বিক তেল বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে:
চীনের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ রোধ: মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে চীন একাই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও গ্রে-মার্কেটের সুযোগ নিয়ে কম দামে রাশিয়ার সমস্ত তেল কিনে নিজের দেশে স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে মজুত করতে পারবে না। এই ৩০ দিনের ছাড়ের ফলে এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তেল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
আমেরিকাকে ভারতের স্পষ্ট বার্তা: আমেরিকার এই ঘোষণার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালেই ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় দেওয়ার আগেও ভারত রাশিয়ার তেল কিনত, ছাড়ের সময়েও কিনেছে এবং ভবিষ্যতেও কিনবে। আমেরিকার সিদ্ধান্তের কারণে ভারতের সার্বভৌম তেল আমদানিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
ভারতের অর্থনীতিতে রুশ তেলের ইতিবাচক প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকার সুযোগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ সস্তা তেল আমদানি করেছে। আমদানির এই রেকর্ড পরিমাণটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভারতের অর্থনীতি, মুদ্রা বাজারে রুপির স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের দৈনিক জ্বালানি চাহিদা (যেমন- পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ) মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
+------------------------------------------+------------------------------------+
| খাতের বিবরণ ও সূচক (মে ২০২৬) | কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বাস্তব রূপ |
+------------------------------------------+------------------------------------+
| মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নতুন ছাড় | ৩০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স (১৮ মে জারিকৃত) |
| মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য | বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা|
| ভূ-রাজনৈতিক প্রতিরোধ | রাশিয়ার তেলের ওপর চীনের একক আধিপত্য ঠেকানো|
| ভারতের আমদানি নীতি | মার্কিন লাইসেন্স উপেক্ষা করে রুশ তেল কেনা বহাল|
| ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব | রেকর্ড তেল আমদানির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে স্বস্তি |
+------------------------------------------+------------------------------------+
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যদি ৩০ দিন পর এই ছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ায়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে ভারত ও চীনের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশগুলো যেভাবে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় (যেমন- রুপি ও ইউয়ান) রাশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিজেদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো যে পশ্চিমা ভূ-রাজনীতির তোয়াক্কা করবে না, ভারতের এই অনড় অবস্থান তারই এক সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কূটনীতি এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির গভীর ও প্রফেশনাল ইনফরমেশনাল কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |