| বঙ্গাব্দ

চীনের একক আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-05-2026 ইং
  • 7658 বার পঠিত
চীনের একক আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক অবস্থান নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে চীনের কোনো একক আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না।

চীনকে উদ্দেশ্য করে হেগসেথ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘চীনসহ কোনো রাষ্ট্রই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং আমাদের জাতি ও মিত্রদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারবে না’।

শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানের মূল বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. আধিপত্যের বিরোধিতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা

পিট হেগসেথ তাঁর বক্তৃতায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

  • ভারসাম্য নষ্টের ঝুঁকি: তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো একটি পক্ষের একক আধিপত্য এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নষ্ট করবে।

  • ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিশ্রুতি: ইরান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনের পুরো মনোযোগ অন্যদিকে থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • মার্কিন অবস্থানের প্রতি সম্মান: যুক্তরাষ্ট্র চায় ‘চীন যেন এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সম্মান জানায়’—বলেন হেগসেথ।

২. কঠোর বার্তার আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসনের বেইজিং নীতি

চীনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন।

  • ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক: পিট হেগসেথ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক গত বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

  • সামরিক যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত: এই সুসম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা আমাদের চীনা সমকক্ষদের সঙ্গে সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রেখে আগের চেয়ে আরো ঘন ঘন বৈঠক করছি’।

৩. শাংরি-লা ডায়ালগের মূল দ্বিমত ও কৌশলগত অবস্থান ম্যাট্রিক্স

২৩তম আইআইএসএস শাংরি-লা ডায়ালগ (29–31 মে 2026) সিঙ্গাপুরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, এশিয়ায় মার্কিন প্রতিশ্রুতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে [১.৩.১, ১.৪.৩]। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের মূল বক্তব্যের আলোকে এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল দ্বিমত ও কৌশলগত অবস্থানের ম্যাট্রিক্স নিচে দেওয়া হলো 
শাংরি-লা ডায়ালগ ২০২৬: দ্বিমত ও কৌশলগত অবস্থান ম্যাট্রিক্স
প্রধান দ্বিমতের ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কৌশলগত অবস্থানচীন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিশ্রুতিমার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন এবং এশিয়ায় মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন [১.৩.৮, ১.৪.৩]।এশীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা এবং একতরফা সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে [১.৪.৩]।
দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ানফ্রিডম অফ নেভিগেশন (নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা) রক্ষা এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা [১.৪.৩]।বেইজিং এটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং এই অঞ্চলে সামরিকীকরণের মার্কিন উস্কানি হিসেবে দেখছে [১.৪.৩]।
ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি নিরাপত্তাওয়াশিংটন শান্তি আলোচনায় তড়িঘড়ি না করে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছে [১.৪.৮]।এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে [১.৪.৩]।
আঞ্চলিক জলপথ ও টোল বিতর্কহরমুজ ও মালাক্কা প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখার দাবি [১.৪.৩]।ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালীতে টোল আরোপের প্রাথমিক ধারণা থেকে পিছিয়ে এসে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে [১.৪.৩]।
নিরাপত্তা জোটের বহুমাত্রিকতাকোয়াড (QUAD) বা অকাস (AUKUS) এর মতো অংশীদারিত্ব জোরদার করে একটি খণ্ডিত বিশ্বে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা [১.৩.২]।চীন একে এশীয় অঞ্চলে তাদের ঘিরে ফেলার এবং ন্যাটো (NATO) স্টাইলের ব্লক তৈরির পশ্চিমা প্রচেষ্টা বলে মনে করে।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এই বক্তব্যটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পিস থ্রু স্ট্রেন্থ’ (Peace through Strength) বা শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতির একটি চমৎকার উদাহরণ। ওয়াশিংটন বেইজিংকে একদিকে যেমন বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের কারণে তারা এশিয়া মহাদেশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেনি, ঠিক অন্যদিকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতির সুনামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আলোচনার টেবিলও উন্মুক্ত রাখছে। তবে চীন এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দীর্ঘদিনের অবস্থানকে’ কতটা সম্মান জানাবে, তা দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে।

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, এসইও স্ট্র্যাটেজি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ট্রেন্ড বিশ্লেষণ দেখতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency