যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান ও অতি-আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় দেশটির বিরুদ্ধে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বা প্রতি-গোয়েন্দা হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ (NBC News) শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁশ করেছে।
দুজন বর্তমান এবং একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (DIA) সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন জারি করেছে। এর মাধ্যমে ইসরাইলের হুমকি সংক্রান্ত সূচকটিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ (Critical) বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও অত্যন্ত গোপনীয় সিদ্ধান্তগুলো আগেভাগে জানার জন্য ইসরাইল বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে। মূলত জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের ওপর নজরদারি জোরদার করার ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করেই পেন্টাগন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।
ডিআইএ-এর এই নতুন মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার একটি গোপন নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যা হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক গভীর মতবিরোধের আবহেই এই উচ্চ সতর্কতা জারি করা হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত সপ্তাহেই দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও তিক্ত ফোনালাপ হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাথে মিলে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে—সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সুনির্দিষ্ট ও আগাম অবস্থান জানতে চরম উদগ্রীব হয়ে আছে তেল আবিব। আর এই তথ্য পেতেই মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি দূতাবাস এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরাইল মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর কোনো ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে না এবং এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।
অন্যদিকে, পেন্টাগন এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও কৌশলগত কারণে প্রতিবেদনটিকে জনসমক্ষে অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন।
সরকারি পর্যায় থেকে অস্বীকার করা হলেও প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাকে ‘অতি-আগ্রাসী’ (Ultra-aggressive) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আসলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরবর্তীতে কী করতে যাচ্ছে, তা ব্যাক-চ্যানেলের বাইরে গিয়ে জানার জন্য ইসরাইলিরা বরাবরই অত্যন্ত মাত্রায় আগ্রহী ও তৎপর থাকে। আর এই অতি-আগ্রহই অনেক সময় মিত্রদের মধ্যে সাইবার ও প্রতি-গোয়েন্দা লড়াইয়ের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের অন্দরের খবর, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |