| বঙ্গাব্দ

বিএনপির নতুন বাজেটকে গণবিরোধী ও ঋণনির্ভর বলল এবি পার্টি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-06-2026 ইং
  • 12339 বার পঠিত
বিএনপির নতুন বাজেটকে গণবিরোধী ও ঋণনির্ভর বলল এবি পার্টি | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: এবি পার্টি

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটির বাজেট কাগুজে উচ্চাকাঙ্ক্ষা; মূল্যস্ফীতি ও ঋণঝুঁকি আরও বাড়বে: মঞ্জু-ফুয়াদ

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেটকে চরম বাস্তবতাবিবর্জিত, ঋণনির্ভর ও ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অনাস্থা ব্যক্ত করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) party। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে যে গভীর সংকট, আস্থাহীনতা ও তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণের কোনো সুস্পষ্ট বা দূরদর্শী দিকনির্দেশনা এই বাজেটে রাখা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশের ৫৫তম বাজেট পেশ করেন বর্তমান বিএনপি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার পরপরই এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া জানান।

পরিসংখ্যানের মোড়কে বিভ্রান্তির চেষ্টা

যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির শীর্ষ দুই নেতা বলেন, “প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি মাথায় নিয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে মেগা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার চেয়ে কাগুজে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সংকটের পর সরকারের এই প্রথম বাজেট মূলত দেশের সাধারণ জনগণকে কেবল কিছু পরিসংখ্যানের মোড়কে ও শুভঙ্করের ফাঁকিতে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।”

তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের প্রকৃত চাহিদা, ক্রয়ক্ষমতা এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গতানুগতিক ও বিদেশি এবং অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভর বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অর্থনীতিকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই

বিবৃতিতে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থবির হয়ে থাকা দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ (Action Plan) নেই। দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত করার উদ্ভাবনী কোনো পথ তৈরি না করে, সরকার আবারও সেই পুরনো কায়দায় কর বৃদ্ধি ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকিপূর্ণ পথেই হাঁটছে।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের (ট্যাক্স ও ভ্যাট) বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে সরকারের যে বিশাল রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা, তা বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতিকে বাজারে আরও বেশি উসকে দেবে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সরকার ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ কোটির বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ পাবেন না, যা বেসরকারি বিনিয়োগকে চরমভাবে নিরুৎসাহিত করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সম্পূর্ণ বাধাগ্রস্ত করবে।

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের প্রবণতাই দৃশ্যমান

আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনা টেনে এবি পার্টির নেতারা মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে পরিসংখ্যানের শুভঙ্করের ফাঁকির মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির আসল ও বাস্তব চিত্র আড়াল করা হতো, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই একই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অথচ সরকারের রাজস্ব ব্যয় ও তথাকথিত উন্নয়ন ব্যয়ের নামে হওয়া অপচয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় মেগা খাতে ব্যয় সংকোচনের (Austerity) কোনো কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এই বাজেটে দৃশ্যমান নয়।”

নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন, দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে জনগণকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল করে তোলার জন্য দেশের কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), নতুন তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আইটি কর্মসংস্থানে মেগা বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। আকারে বড় হলেই বাজেট সফল হয় না; ঘাটতি ও ঋণনির্ভর এমন বাজেট কখনোই শতভাগ বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে না।

এবি পার্টির পক্ষ থেকে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে অবিলম্বে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়ানো, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন, কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে এই জনবিরোধী বাজেটটি পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency