| বঙ্গাব্দ

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-06-2026 ইং
  • 8349 বার পঠিত
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক উত্তেজনা ও ছায়াযুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি বহুল প্রতীক্ষিত পারমাণবিক ও স্থায়ী শান্তি চুক্তি আজ রবিবার (১৪ জুন) সই হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই কথিত শান্তি চুক্তিকে এক হাত নিয়েছেন মার্কিন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। তাঁরা এই চুক্তিকে শান্তি চুক্তি বলতে নারাজ; বরং একে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক লজ্জাজনক ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে কঠোর সমালোচনা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা (Al Jazeera)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হাই-ভোল্টেজ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের তথ্য জানানো হয়েছে।

চুক্তি নিয়ে সন্দিহান ডেমোক্র্যাটরা, এক্সে সিনেটর শিফের পোস্ট

ট্রাম্পের প্রত্যাশিত এই ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। এই চুক্তি প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) একটি কড়া পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:

“প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ নাকি শেষ। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি তিনি যেন সঠিক হন। কিন্তু আমরা এর আগেও অনেক ভঙ্গ হওয়া ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এমন বড় বড় কথা বারবার শুনেছি।”

প্রেসিডেন্টের নীতিকে ধুয়ে দিয়ে সিনেটর শিফ আরও বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) নিজের খামখেয়ালিপনায় একের পর এক নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু রাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় কমাতে পারেননি। আর এর ভুল মাসুলের ফলে আমেরিকার সাধারণ জনগণ সামাজিকভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

‘এটি একটি ভয়াবহ ও আত্মসমর্পণমূলক চুক্তি’: সেথ মোল্টন

অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তিকে সরাসরি মার্কিন স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে একে ‘মূলত একটি আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ (MS Now)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মোল্টন বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ও ক্ষতিকর চুক্তি! এটি মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাঁটু গেড়ে আত্মসমর্পণের দলিল মাত্র। এই অহেতুক যুদ্ধে ইতোমধ্যে আমেরিকার সাধারণ করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সম্পূর্ণ পানিতে গেছে, ১৪ জন আমেরিকান সেনা ও নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর দিনশেষে আমরা এমন একটি নমনীয় চুক্তি পাচ্ছি, যা শুধু সেই বাণিজ্যিক ও পরমাণু প্রণালীটি আবার খুলে দিচ্ছে, যা ট্রাম্প এই অহেতুক যুদ্ধ শুরু করার আগেই ওবামা আমলে খোলা ছিল। এই চুক্তির মধ্যে আমেরিকার জয়ের কী আছে?” ডেমোক্র্যাটদের এমন তীব্র আপত্তির মুখে আজ রবিবার আদৌ এই চুক্তি সই হবে কি না, তা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে; কারণ ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।

কেনেডি সেন্টার থেকে আদালতের নির্দেশে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

এদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের এক আইনি ধাক্কা খেয়েছেন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরা ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম চিরতরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি ফেডারেল আদালতের কঠোর নির্দেশনার পর গতকাল শনিবার (১৩ জুন) নাম সরানোর এই কাজ সম্পূর্ণ সম্পন্ন করা হয়।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের (Geo News) বরাতে জানা গেছে, কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা মার্কিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মূল ভবন এবং এর আশপাশের চত্বরে থাকা ট্রাম্পের নামসংবলিত সব ধরণের ছোট-বড় সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। আদালতের রায়ের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে ভবনের সম্মুখভাগে বড় বড় সোনালী অক্ষরে খোদাই করে লেখা ‘ট্রাম্প’ নামটিও ক্রেন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়।

চেয়ারম্যান হয়ে নিজেই বদলেছিলেন নাম!

ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আরোহণের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেকে এই জাতীয় কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তাঁর অন্ধ সমর্থকদের নিয়ে গঠিত একটি অনুগত পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির মূল নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ করার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী রাতারাতি ভবনের গায়ে ট্রাম্পের নাম সেঁটে দেওয়া হয়েছিল।

এর বিরুদ্ধে মার্কিন সুশীল সমাজ আদালতে শরণাপন্ন হলে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এক ঐতিহাসিক রায়ে বলেন, কেনেডি সেন্টারের মতো একটি জাতীয় ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও একিট অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের একক ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের রয়েছে, প্রেসিডেন্টের নয়। আদালত ট্রাম্পের নাম অপসারণের জন্য প্রশাসনকে ১৪ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।

আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পরপরই কেনেডি সেন্টারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল আর্কাইভ থেকেও ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলা হয়। এই নাম অপসারণের দৃশ্য সরাসরি দেখার জন্য শুক্রবার গভীর রাত থেকেই সেন্টারের বাইরে শত শত উৎসুক সাধারণ মানুষ ও ট্রাম্প বিরোধীরা জড়ো হন। তারা নাম ফলক নামানোর সময় হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শেষ মুহূর্তের চাল হিসেবে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে সময় বাড়ানোর জন্য আইনি আবেদন করলেও বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “একটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও স্বৈরাচারী সরকারি সিদ্ধান্তকে কালক্ষেপণ করে দীর্ঘায়িত করা মার্কিন জনস্বার্থের চরম পরিপন্থী।” উল্লেখ্য, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগে থেকেই তীব্র বিতর্ক চলছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমেরিকার কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী কেনেডি সেন্টারে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান পর্যন্ত বয়কট বা বাতিল করেছিলেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency