আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও তীব্র যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে উন্মুক্তকরণ এবং ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে এই চুক্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা আজ সোমবার (১৫ জুন) বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষনেতারা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের যৌথ আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা পুরো বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করেছিল।
তিন মাসব্যাপী এই বিধ্বংসী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি চুক্তির বিষয়টি আজ সোমবার প্রথম প্রহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
পাকিস্তানের এই বার্তার প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পীয় সুলভ ভঙ্গিতে লেখেন:
“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত বাণিজ্য জাহাজ—তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল সচল হতে দাও!”
মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনার সময় দুই পরমাণু প্রতিদ্বন্দীকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার পেছনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের অবিরাম প্রচেষ্টার কথা বারবার কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও পাকিস্তান সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
পাকিস্তানের এই অনন্য ও দূরদর্শী কূটনৈতিক সাফল্যের পর জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধানরা ঢাকাকে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কুর্নিশ জানিয়েছেন। বিশ্বনেতারা মনে করছেন, এই চুক্তি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বজায় রাখবে না, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক আলোচনার পথ সুগম করবে।
জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওয়াশিংটন ও তেহরানকে অভিনন্দন জানিয়ে এক্সে লিখেছেন, “এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চুক্তি অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার পথ তৈরি করবে।” তিনি সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরব: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতাকে রিয়াদ স্বাগত জানায়’ বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে পাকিস্তানের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়।
কাতার: কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে ‘ইউএস-ইরান সমঝোতা স্মারক’ তৈরিতে পাকিস্তানের গঠনমূলক প্রচেষ্টার আমরা উচ্চ প্রশংসা করি।”
তুরস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য আমি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাই।” একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই—যারা এই যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন।”
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স পৃথক পৃথক বার্তায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এখন এটি খুলে দেওয়ার ফলে প্রধান সরবরাহ চেইনগুলোতে বৈশ্বিক আস্থা ফিরে আসবে। ১৯ জুনের ঐতিহাসিক জেনোভার চুক্তি সইয়ের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |