আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
ফ্রান্সে চলমান জি-সেভেন (G7) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে অত্যন্ত বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তিনি নিজে পাশে না থাকলে এতদিনে ইসরাইলের অস্তিত্বই মুছে যেত। একই সঙ্গে মার্কিন-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে সুরক্ষিত করতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন ফ্রন্টে আরও ‘দায়িত্বশীল’ ও সংযত হওয়ার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস-এ অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রতি তার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এবং ভারতের ‘টাইমন অব ইন্ডিয়া’ ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়:
"যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরাইল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরাইল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো প্রস্তুত ছিলেন না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তবে এখন লেবাননের বিষয়ে বিবিকে (নেতানিয়াহু) আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।"
ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, তিনি জড়িত না হলে অনেক আগেই ইসরাইল পুরোপুরি ধ্বংস বা বিস্ফোরিত হয়ে যেত (Blown up), এবং ইসরাইলের প্রতিটি বুদ্ধিমান মানুষই এই সত্যটি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য ঘোষিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইসরাইলের সামরিক নীতি নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভ দেখালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লেবানন ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন:
ধীরগতিতে অসন্তোষ: "লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের আচরণ বা যুদ্ধ পরিচালনার ধরণ আমার একদম ভালো লাগেনি। তাদের আরও দ্রুত এই কাজটি শেষ করা উচিত ছিল।"
চুক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব: ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধটি প্রয়োজন ছাড়াই অনেক বেশি দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। আর এমন চলতে থাকলে তা ইরানের সঙ্গে হওয়া আমেরিকার বড় ধরনের শান্তি চুক্তির (The Big Deal) ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই হিজবুল্লাহর মতো ‘ছোটখাটো’ বিষয়ের জন্য তিনি এই ঐতিহাসিক চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না। প্রয়োজনে হিজবুল্লাহকে দমনের দায়িত্ব ইসরাইলের বদলে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘রয়টার্স’ ও ‘টাইম ম্যাগাজিন’ জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য তিরস্কারের ঠিক আগের দিনই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে এখনই কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না। ইসরাইলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "ইসরাইল আমেরিকার কোনো অধীনস্থ রাষ্ট্র নয়।"
তবে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন-ইরান চুক্তির মূল শর্তই হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরাইলি আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় রাজনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।
| প্রধান বিষয় | ট্রাম্পের মন্তব্য ও অবস্থান |
| ইসরাইলের অস্তিত্ব | মার্কিন সাহায্য ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়া ইসরাইল টিকে থাকত না। |
| নেতানিয়াহুকে পরামর্শ | লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যুতে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। |
| যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা | ইসরাইলের উচিত ছিল লেবানন অপারেশন আরও দ্রুত শেষ করা। |
| মূল লক্ষ্য | ইরানের সঙ্গে হওয়া আমেরিকার ‘বিগ ডিল’ বা মূল শান্তি চুক্তি রক্ষা করা। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এই
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |