| বঙ্গাব্দ

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে কোন্দল, সিআইএ-র গোপন সতর্কবার্তা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-06-2026 ইং
  • 6326 বার পঠিত
ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে কোন্দল, সিআইএ-র গোপন সতর্কবার্তা
ছবির ক্যাপশন: ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প

হোয়াইট হাউজে গোয়েন্দা বনাম রাজনৈতিক মহলের লড়াই; ট্রাম্পের ১৪ দফার চুক্তি কি ৬০ দিনের ফাঁদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নবঘোষিত ও বহুল আলোচিত ‘ইরান শান্তি চুক্তি’ নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক, সামরিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা মহলের মধ্যে তীব্র সংশয়, মতভেদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠিন শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ সরে আসার বিষয়ে ইরানের আসল সদিচ্ছা নিয়ে গভীর এবং যৌক্তিক সন্দেহ রয়েছে।

অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন ইরানি ইন্টারসেপ্ট ফাইল (আইনি আড়ি পাতার মাধ্যমে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য)-এর ওপর ভিত্তি করেই সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ হোয়াইট হাউজকে এই বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

গোপন নথিতে তেহরানের দ্বিচারিতা ফাঁস, মুখোমুখি রুবিও ও ভ্যান্স

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর বিশেষ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার (১৪ জুন) ডিজিটাল মাধ্যমে দুই দেশের প্রাথমিক চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই ভূ-রাজনৈতিক সংশয় প্রকট হয়ে ওঠে।

সিআইএ-র হস্তগত হওয়া অত্যন্ত গোপন ইরানি সরকারি নথিতে দেখা গেছে, ইরানি কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এই আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন এবং কৌশল সাজাচ্ছেন, তা মধ্যস্থতাকারী দেশ (কাতার ও ওমান) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সরাসরি দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) দৃঢ়ভাবে মনে করেন, তেহরানের এই প্রকাশ্য দ্বিচারিতার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত মার্কিন শর্ত মেনে চূড়ান্ত কোনো স্থায়ী চুক্তিতে সই করবে না। একই সাথে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও (Pete Hegseth) এই সামরিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে তীব্র সামরিক ও কৌশলগত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রশাসনের এই তীব্র আপত্তির বিপরীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই চুক্তির পক্ষে শুরু থেকেই জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক খরচ এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমে আসবে।

চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, ৬০ দিনের ‘অগ্নিপরীক্ষা’

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সব পক্ষের যৌক্তিক ও ক্ষুব্ধ মতামত শুনলেও, এই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ও সর্বোচ্চ আইনি ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই। হোয়াইট হাউজের দাবি, এই অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকে (MOU) ট্রাম্প প্রশাসনের সব ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমারেখা শতভাগ বজায় রাখা হয়েছে—যেন ইরান কখনোই কোনো পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Heavily Enriched Uranium) নিজের দেশে মজুদ বা ধরে রাখতে না পারে।

তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন ১৪ দফার চুক্তিটি মূলত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত, দীর্ঘমেয়াদী ও বিস্তারিত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করছে। এই ৬০ দিন মূলত দুই দেশের জন্য একটি কঠোর রাজনৈতিক ‘অগ্নিপরীক্ষা’।

সমালোচকদের মূল ভীতি: ৬০ দিনের ফাঁদে পা দিচ্ছে না তো আমেরিকা?

ট্রাম্পের এই শান্তি চুক্তির কট্টর সমালোচক ও পেন্টাগনের প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রধান ভীতি হলো, ইরান শেষ পর্যন্ত মার্কিন শর্ত মেনে চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। অথচ এই অন্তর্বর্তীকালীন ৬০ দিন ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখার দারুণ সুযোগে তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশাল লাভবান হয়ে যাবে।

এই চুক্তির প্রাথমিক শর্তের ভেতর রয়েছে—বিতর্কিত ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে আগামী ৬০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ থাকা ইরানি সরকারি তহবিল ধাপে ধাপে ছাড় করার মতো বড় ধরণের আন্তর্জাতিক সুবিধা।

তবে মার্কিন প্রবীণ নীতি-নির্ধারকদের একাংশের দাবি, ইরান অগ্রিম কোনো আর্থিক বা কূটনৈতিক সুবিধা পাবে কি না—তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রতিটি বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের ওপর। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইউরেনিয়াম আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া দেখে বোঝা যাবে ইরান পারমাণবিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আসলেই আন্তরিক কি না; অন্যথায় ইরান কোনো বড় সুবিধা পাওয়ার আগেই ট্রাম্পের নির্দেশে এই পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি মাঝপথে ভেস্তে বা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

এক নজরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইরান চুক্তি নিয়ে অবস্থান

চুক্তি সপক্ষের মহল (রাজনৈতিক উইং)চুক্তি বিরোধী মহল (গোয়েন্দা ও সামরিক উইং)
জেডি ভ্যান্স (ভাইস প্রেসিডেন্ট)জন র‍্যাটক্লিফ (সিআইএ পরিচালক)
স্টিভ উইটকফ (মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত)মার্কো রুবিও (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
জ্যারেড কুশনার (সাবেক উপদেষ্টা)পিট হেগসেথ (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
যুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঝুঁকি ও সামরিক ব্যয় কমবে।যুক্তি: ইরান গোপনে শর্ত ভাঙছে ও ৬০ দিনের অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency