কূটনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
মিয়ানমার থেকে জান্তা বাহিনীর বর্বরতার মুখে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নতুন করে আরও জমি বরাদ্দ চেয়েছে জাতিসংঘ। তবে বিশ্ব সংস্থার এই অদ্ভুত ও অযৌক্তিক আবেদন কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে, জমি বরাদ্দের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সমান্তরালে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ও নিরাপদ নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৯ জুন) মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তি ও বিস্তৃতি মিয়ানমারে। তাই, এর একমাত্র টেকসই ও স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারের ভেতরেই খুঁজে বের করতে হবে।"
জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বিশ্বনেতাদের মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে পরম আশ্রয়ে আগলে রেখেছে। যদিও এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বর্তমান সময়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় এবং নানামুখী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বিপুলসংখ্যক ভিনদেশি শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং দেশের সীমিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর এক ব্যাপক ও অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে। যার ফলে, সংকটের দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ও অবশম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, পরাশক্তি রাষ্ট্রসমূহ এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের (যেমন চীন ও ভারত) প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন:
"রোহিঙ্গারা নিজেরাও আর শরণার্থী শিবিরে থাকতে চায় না, তারা অত্যন্ত সম্মানের সাথে মিয়ানমারে নিজেদের আদি ঘরে ফিরে যেতে চায়। ফলে নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র এবং চূড়ান্ত টেকসই সমাধান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পেছনে যারা মূল অপরাধী ও দায়ী, তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সংকটের মূল কারণগুলো গোড়া থেকে মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন ও অব্যাহত মনোযোগ কামনা করছি।"
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগে থেকেই বিভিন্ন দফায় অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে এসে টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলার সাজানো অজুহাত বা তকমা দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম ও পৈশাচিক জাতিগত নিধন (Ethnic Cleansing) শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর সেই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখ থেকে জীবন বাঁচাতে এরপরের মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশে ধেয়ে আসে আরও সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব ধরনের মানবিক ও গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে, যার ওপর নতুন করে জমি বরাদ্দের জাতিসংঘের এই দাবি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক বড় চাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
| প্রধান দিক ও সূচক | বর্তমান কূটনৈতিক ও মাঠপর্যায়ের স্থিতি |
| জাতিসংঘের দাবি | বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত নতুন জমি বরাদ্দ দেওয়া। |
| বাংলাদেশের অবস্থান | জমি বরাদ্দের আবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি। |
| মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা | ২০১৭-এর পূর্বের ৪ লাখ এবং পরের সাড়ে ৭ লাখসহ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ। |
| স্থায়ী প্রতিনিধির বার্তা | সংকটের উৎপত্তি যেখানে (মিয়ানমারে), টেকসই সমাধানও হতে হবে সেখানেই। |
কূটনৈতিক সংবাদদাতা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ভূ-রাজনীতি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের সব এক্সক্লুসিভ খবরের সর্বশেষ লাইভ আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |