আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
লেবাননের শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর কাছে সাম্প্রতিক সামরিক পরাজয় ও বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি থেকে ইসরাইলকে অবিলম্বে শিক্ষা নেওয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ইসমাইল ঘানি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তেল আবিব যদি তাদের আগ্রাসী নীতি পরিবর্তন না করে, তবে তাদের সামনে আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কমান্ডার ইসমাইল ঘানি ইসরাইলি নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য করে লেখেন:
"গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আমরা যখন বলেছিলাম হিজবুল্লাহর কাছে ‘মিরাসাদ’ (ড্রোন) আছে, তখন আপনারা পাত্তা দেননি এবং ফাঁদে পড়েছেন। এই একশত হতাহতের জবাব কে দেবে? আপনারা যদি আপনাদের রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেন, তবে ঝড়ের কবলে পড়বেন। সতর্ক থাকুন।"
কমান্ডার ঘানির পোস্টে উল্লেখ করা ‘মিরাসাদ’ হলো মূলত একটি ছোট আকারের চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন (UAV), যা লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করে থাকে।
তবে ইরানের সামরিক ইতিহাসে ‘মিরাসাদ’ শব্দটির একটি ঐতিহাসিক ও আবেগীয় গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদপুষ্ট ‘এমকেও’ (MKO) বাহিনীর একটি বড় ধরণের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, যা ইতিহাসে ‘অপারেশন মিরাসাদ’ নামে পরিচিত। সেই সফল সামরিক অভিযানে শত্রুপক্ষের ৪,৮০০-এরও বেশি সেনা হতাহত হয়েছিল এবং ১২০টি ট্যাংক ও ৪০০টি সাঁজোয়া যান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী ড্রোন হামলায় তাদের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ড্রোন হামলায় আলেকজান্ডার ফিলিন নামে এক ইসরাইলি সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন।
এর বাইরে পৃথক আরেকটি অভিযানে, রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার (IED) আঘাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যেখানে নতুন করে আরও চারজন ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, আহত সেনাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মূলত এই ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটেই হিজবুল্লাহ সম্প্রতি লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা ও পাল্টা আক্রমণ বহুগুণ জোরদার করেছে।
গত শুক্রবার হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম এক ওয়ান-অন-ওয়ান বক্তব্যে তাদের সামরিক অনমনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, আর এটিই আমাদের বিজয়ের একটি অপরিহার্য ও প্রধান উপাদান।" ইসরাইলকে লক্ষ্য করে তিনি আরও যোগ করেন, "শত্রু যখন আমাদের দিকে অন্যায়ভাবে অস্ত্র তাক করবে, আমরাও অস্ত্রের মাধ্যমেই তার দাঁতভাঙা মোকাবিলা করব।" শেখ কাসেম যুক্তি দেখান যে, যেকোনো অবৈধ দখলদারিত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার প্রতিটি পদক্ষেপই একেকটি নিশ্চিত বিজয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির পেছনে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক মোড় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর এই আঞ্চলিক যুদ্ধ অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্প্রতি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এই বৈশ্বিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সত্ত্বেও লেবানন সীমান্তে ইসরাইল কর্তৃক ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
| প্রধান বিষয় ও ঘটনা | সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতি |
| কুদস ফোর্সের বার্তা | হিজবুল্লাহর ড্রোন ও গাজার প্লাবনের ফাঁদ থেকে ইসরাইলকে সতর্ক থাকার আহ্বান। |
| হিজবুল্লাহর ‘মিরাসাদ’ | গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ড্রোন। |
| ইসরাইলি ক্ষয়ক্ষতি | ড্রোন হামলায় সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস; ১ সেনা (আলেকজান্ডার ফিলিন) নিহত ও ১১ জন আহত। |
| যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন | ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান সমঝোতা চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইলের ক্রমাগত হামলা অব্যাহত। |
আন্তর্জাতিক সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরান-ইসরাইল সংঘাত, হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |