আন্তর্জাতিক ও উত্তর আমেরিকা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ওভারসাইট কমিটির কাছে এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কুখ্যাত মার্কিন অর্থকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের সময়েই তিনি তার যৌন অপরাধের অতীত সাজা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। তবে পরবর্তীতেও এপস্টেইন যে পর্দার আড়ালে তার ভয়াবহ অপরাধমূলক অপকর্ম ও নারী পাচার চক্র চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
চলতি জুনের শুরুতে হাউস ওভারসাইট কমিটির চলমান বিশেষ 'এপস্টেইন তদন্তের' অংশ হিসেবে বিল গেটসের দেওয়া এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকারের অনুলিপি (ট্রান্সক্রিপ্ট) সম্প্রতি প্রকাশ করা হলে মার্কিন রাজনীতি ও করপোরেট মহলে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই নথির বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত অনুলিপিতে দেখা যায়, বিল গেটস ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের বিশদ বিবরণ দেন। গেটস জানান, এপস্টেইন তাঁর বিশ্বখ্যাত দাতব্য কাজের (বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন) জন্য বড় বড় বৈশ্বিক দাতাদের আকৃষ্ট করতে পারবেন—এমন তীব্র আশাতেই তিনি এই বিতর্কিত সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে যখন তিনি চূড়ান্তভাবে বুঝতে পারেন যে এপস্টেইন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন, তখন তিনি তার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
২০০৮ সালে নাবালিকা পাচার ও যৌন অপরাধের দায়ে এপস্টেইনের হওয়া সাজাকে হালকাভাবে নেওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে গেটস বলেন, "আমি জানতাম তার একটি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আমি এটিও জানতাম যে সেটি যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত ছিল, তবে আমি সে সময়ে এর গভীরে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজার চেষ্টা করিনি, যা সম্ভবত আমার করা উচিত ছিল।" গেটস আরও স্বীকার করেন যে, এপস্টেইনের অপরাধের রেকর্ড থাকার কথা জানলেও, তিনি যে আইনগতভাবে একজন ‘তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী (Registered Sex Offender)’, সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এপস্টেইন কখনই তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কোনোদিন এপস্টেইনের কুখ্যাত ‘যৌন দ্বীপেও’ (লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড) যাননি।
মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত বহুল আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ থেকে বিল গেটসের সঙ্গে এই সম্পর্কের আরও কিছু নোংরা ও বিতর্কিত দিক উন্মোচন হয়েছে। একটি অপ্রকাশিত খসড়া (ড্রাফট) ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন নিজের কাছেই একটি চিঠি লিখে রেখেছিলেন, যেখানে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে দাবি করা হয়—বিল গেটসের একটি বিশেষ যৌনবাহিত রোগ (STD) ছিল এবং গেটস সেই সংক্রান্ত সমস্ত ডিজিটাল ইমেইল ও মেডিকেল রেকর্ড মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে গোপনে দেওয়ার জন্য এপস্টেইনের কাছে বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিকও চেয়েছিলেন বিল গেটস।
হাউস কমিটির সামনে এই নোংরা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিল গেটস একে নিখাদ ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। গেটস বলেন, "জানুয়ারিতে প্রকাশিত নথিগুলো দেখে এখন মনে হচ্ছে, তিনি (এপস্টেইন) নিজের ইমেইলে ড্রাফট লিখে মহড়া দিচ্ছিলেন কীভাবে ভবিষ্যতে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা যায় বা অন্য কোনো থার্ড পার্টিকে দিয়ে করানো যায়। তবে এই বার্তাগুলোর কোনোটিই আমাকে বা মেলিন্ডাকে কখনো পাঠানো হয়নি। আমি জেফরি এপস্টেইনকে জীবনে কখনো কোনো অর্থ বা মুক্তিপণ দিইনি।"
এ ছাড়া হাউস কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী লেসলি গ্রফের জুন মাসে নেওয়া সাক্ষাৎকারের অনুলিপিও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের একটি বিতর্কিত অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রফকে অন্যতম সম্ভাব্য ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। গ্রফ এই তকমাকে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে বড় কলঙ্কের দাগ’ হিসেবে বর্ণনা করে কমিটিকে বলেন, "আমি কোনো ষড়যন্ত্রকারী নই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই একতরফা সিদ্ধান্ত আমাকে স্তব্ধ করেছিল।" গ্রফ দাবি করেন, তিনিও এপস্টেইনের মূল অপরাধের বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধ ছিলেন এবং ২০০৮ সালের প্রথম সাজার পর এপস্টেইন তাকে বুঝিয়েছিলেন যে তাকে রাজনৈতিকভাবে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে।
নিজের চাকরি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে গ্রফ বলেন, "সাজার পরেও আমি আমেরিকার অনেক নামী ভিআইপি ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের এপস্টেইনের আশেপাশে নিয়মিত ঘুরতে ও বৈঠক করতে দেখেছি।" উদাহরণ হিসেবে গ্রফ জানান, তিনি বছরে বেশ কয়েকবার তখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট না হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ ও শিডিউল ঠিক করিয়ে দিতেন।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টেইন সংক্রান্ত কোনো সরাসরি আইনি অভিযোগ বা প্রমাণের হদিস মেলা না গেলেও, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার সময় তাঁর এই দীর্ঘদিনের যোগাযোগ মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘এপস্টেইন ফাইলগুলো’ জনসমক্ষে প্রকাশে তীব্র বাধা দেওয়া এবং পরবর্তীতে ধীরগতিতে ফাইল ছাড়ার কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ ফাইল প্রকাশের এই বিলম্বকে স্রেফ ‘প্রক্রিয়াগত দিক’ উল্লেখ করে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই কড়া ভাষায় দাবি করে আসছেন যে, ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর বহু বছর আগেই তিনি তার সঙ্গে সব ধরনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেছিলেন।
| প্রধান তদন্তাধীন বিষয় | বিল গেটস ও ব্যক্তিগত সহকারীর দেওয়া মূল জবানবন্দি |
| অপরাধের পূর্বজ্ঞান | ২০১১ সালে পরিচয়ের শুরুতেই এপস্টেইনের যৌন অপরাধের সাজা ও রেকর্ডের কথা জানতেন বিল গেটস। |
| সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্য | গেটস ফাউন্ডেশনের দাতব্য কাজের জন্য বড় দাতাদের আকৃষ্ট করার বাণিজ্যিক লোভ। |
| ব্ল্যাকমেইল ও ড্রাফট ইমেইল | গেটসের যৌনরোগ ও মেলিন্ডার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়ার চিঠিকে ব্লাকমেইলের মহড়া বলে দাবি। |
| সহকারী লেসলি গ্রফের দাবি | ২০০৮ সালের সাজার পরও ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক ভিআইপি নিয়মিত এপস্টেইনের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। |
| ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা | ট্রাম্প প্রশাসনের ফাইল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ট্রাম্পের দাবি, মৃত্যুর আগেই সম্পর্ক শেষ হয়েছিল। |
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির পরবর্তী এপস্টেইন ফাইল রিলিজের তারিখ, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল বিবৃতি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় এপস্টেইন বিতর্কের প্রভাব এবং বিশ্ব রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |