আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বিপুল খরচ সামলাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল অংকের অতিরিক্ত জরুরি অর্থায়নের দাবি তুলেছে। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন সিনেটরদের জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থের সিংহভাগই ব্যয় হবে চলমান যুদ্ধসংক্রান্ত অপারেশনাল খরচ মেটাতে এবং ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।
আজ বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটে (OMB) এখনও এই আনুষ্ঠানিক অর্থায়নের প্রস্তাবটি জমা দেওয়া না হলেও, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া মার্কিন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফিনবার্গ গত সপ্তাহে কয়েকজন প্রভাবশালী সিনেটরকে নিশ্চিত করেছেন যে, অতিরিক্ত অর্থায়নের চূড়ান্ত অনুরোধটি ইতিমধ্যেই মূল বাজেট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পেন্টাগনের এই অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রস্তাবটি এমন এক সংবেদনশীল সময়ে সামনে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক ইরান নীতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও কোন্দল চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের মূল সামরিক বাজেট হিসেবে এমনিতেই প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করে রেখেছে, যা বর্তমান অর্থবছরের সাধারণ বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা (রিপাবলিকান) জন থুনে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, "যুদ্ধ-সম্পর্কিত অতিরিক্ত ব্যয়ের এই বিশেষ প্রস্তাবটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে আসবে এবং তখন আইনপ্রণেতারা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এর পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন আছে কি না তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।"
কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, রিপাবলিকানরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে থাকলেও এই প্রস্তাবটি সহজে পাস হতে দেবে না বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রথম থেকেই এই অপ্রয়োজনীয় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের প্রধান যুক্তি হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা হিমশিম খাচ্ছেন, তখন জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ এভাবে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের পেছনে উড়ানো উচিত নয়।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মুরি অভিযোগের সুরে বলেন, "সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান যে অন্যায্য যুদ্ধের ঘোর বিরোধিতা করছে, সেই যুদ্ধেই দেশের সাধারণ পরিবারের কষ্টার্জিত করের অর্থ এভাবে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, গত মাসে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ইরান যুদ্ধের সাময়িক খরচ বড়জোর ২৯ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে একটি প্রাথমিক অনুমান করেছিলেন। তবে এক মাসের ব্যবধানেই সেই যুদ্ধব্যয়ের অংক প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান প্রস্তাবে ৮০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। যদিও যুদ্ধের শুরুতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও রণকৌশলগত হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধের সম্ভাব্য মোট দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে বলে সামরিক মহলে আলোচনা হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রেইন স্কেজ মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জটিলতায় প্রকৃত চূড়ান্ত ব্যয় এই প্রস্তাবিত ৮০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, কট্টর ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর জিম ব্যাঙ্কস সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, "এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধের অর্থায়ন নয়; বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ।"
যুদ্ধের এই আকাশচুম্বী ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসের তীব্র প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক কাউন্টার-প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "ইরান যদি এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলত, তবে বিশ্বজুড়ে তার কৌশলগত ধ্বংসাত্মক মূল্য কত হতো?" তিনি অবশ্য অকপটে স্বীকার করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও বিশাল আর্থিক ব্যয় জড়িত রয়েছে।
অর্থের পরিমাণ: ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট)।
অর্থের মূল খাত: ইরান যুদ্ধের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন।
মূল পরিকল্পনাকারী: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফিনবার্গ।
পূর্ববর্তী অনুমান বনাম বর্তমান: গত মাসে অনুমান ছিল ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ বিলিয়নে।
রিপাবলিকানদের অবস্থান: এটিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার 'দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ' বলে দাবি।
ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ: উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে জনগণের করের টাকা যুদ্ধক্ষেত্রে অপচয়ের তীব্র প্রতিবাদ।
আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অধিবেশনের লাইভ আপডেট, হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য সামরিক নীতি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বৈশ্বিক তেলের বাজারের দরপতন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |