| বঙ্গাব্দ

চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন এমপি মনিরুল হক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-06-2026 ইং
  • 25904 বার পঠিত
চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন এমপি মনিরুল হক
ছবির ক্যাপশন: চরমোনাই পীর

‘আমি নিজেই বিব্রত’: ইউটিউব-ফেসবুকে কটূক্তির জেরে ফয়জুল করীমের নামে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ এমপি মনিরুল হকের

আদালত ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬

জাতীয় সংসদের কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সেনানিবাস) আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নির্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত মানহানি মামলাটি অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মামলা প্রত্যাহারের কড়া নির্দেশ দিয়ে একটি বিশেষ পোস্ট দেন। এমপির সেই প্রকাশ্য ফেসবুক পোস্ট দেখার পরপরই মামলার মূল বাদী আদালত ও থানা থেকে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আইনি পদক্ষেপ নেন।

‘আমি নিজেই বিব্রত, কে মামলা করেছে জানি না’

মামলা দায়েরের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না উল্লেখ করে ফেসবুকে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী লেখেন:

"আমি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদসূত্রে জানতে পেরেছি যে, আমার নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় কেউ একজন চরমোনাই পীরের (ফয়জুল করীম) বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। এই স্পর্শকাতর মামলার বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র অবগত ছিলাম না এবং কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক জানা নেই। পুরো বিষয়টি জানার পর আমি ভীষণভাবে বিব্রত ও লজ্জিত হয়েছি।"

মনিরুল হক চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, "পরবর্তীতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করতে। নেতাকর্মীরা আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করতে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছেন। আমি ইতিমধ্যে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং আমার নিযুক্ত প্যানেল অ্যাডভোকেটকে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছি।"

সংসদের ঘটনা সংসদেই শেষ: মনিরুল হক চৌধুরী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের শেষাংশে মূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কুমিল্লা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য লেখেন, "জাতীয় সংসদে সংঘটিত একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ব্যক্তিগত যে আইনি অভিযোগ ছিল, তা আমি ইতিমধ্যে মহান সংসদেই যথাযথ সংসদীয় বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্পিকারের সমীপে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছি। আমি সবসময় দেশের প্রচলিত আইন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পক্ষে।"

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ও মানহানির এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার বাদী খোকন তালুকদার নিজেকে স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে দাবি করেছেন।

কী ছিল মামলার মূল এজাহারে?

সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত মামলার এজাহার ও ডায়েরি পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১৯ জুন একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে চরম কটূক্তি, বিদ্রূপ এবং তীব্র মানহানিকর বক্তব্য সংবলিত ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল।

বাদীর অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিওতে প্রকাশ্য জনসভায় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দাঁড়ি, টুপি, সুন্নতি পোশাক এবং ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে আপত্তিকর ও বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের মূল ছবি ব্যবহার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে অহেতুক আখ্যা দিয়ে নানা উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগেই এই মামলা করা হয়েছিল, যা এখন রাজনৈতিক ও আইনি সমঝোতার মাধ্যমে পুরোপুরি নিষ্পত্তি হলো।

এক নজরে কুমিল্লায় চরমোনাই পীরের মামলা ও প্রত্যাহারের বিবরণ (জুন, ২০২৬)

  • অভিযুক্ত ব্যক্তিত্ব: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম (চরমোনাই পীর)।

  • নির্দেশদাতা: মনিরুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৬)।

  • মামলার বাদী: জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার (নিজেকে যুবদল নেতা দাবিদার)।

  • মূল অভিযোগ: ইউটিউব ও ফেসবুকে এমপির দাঁড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে কটূক্তি এবং ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ তকমা দেওয়া।

  • প্রত্যাহারের কারণ: সংসদ সদস্য নিজে এই মামলা নিয়ে বিব্রত বোধ করায় দলীয় নেতাকর্মী ও ওসিকে আইনি প্রত্যাহারের নির্দেশ দান।

  • বর্তমান অবস্থা: বাদীর সম্মতিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা ও আদালতে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন।

বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সব ফৌজদারি মামলার লাইভ আপডেট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও চরমোনাই পীরের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচি, জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের খবরাখবর এবং দেশের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency