আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ও ওয়াশিংটনে লেবাননের সঙ্গে সম্পাদিত নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ (Historic Achievement) বলে অবিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চুক্তি স্বাক্ষরের পর টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ও জরুরি ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, "গতকালের এই সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি অর্জন করতে পেরেছি। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর (Hezbollah) প্রতিরোধ বলয় এক বিশাল ও বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা খেয়েছে।"
diplomatic কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হোয়াইট হাউসের কয়েক দিনের টানা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর অবশেষে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা একটি ‘কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক)’ চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেছেন। এই মেগা চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) বলেন, "এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ইসরাইল ও লেবানন—দুই দেশের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে।"
তবে ওয়াশিংটনে চুক্তি সইয়ের উৎসব চললেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো পুরোপুরি শান্ত নয়। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সীমিত আকারের সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলি এখনো অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) কাগজে-কলমে কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি।
মূল ফাটল যেখানে: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে সম্পাদিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে লেবাননের অন্যতম প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ নেয়নি। ফলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত ‘লিতানি নদীর’ (Litani River) দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র যোদ্ধাদের আসলেই সরিয়ে নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো গভীর অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রশাসনের বড় আশঙ্কা ছিল, দক্ষিণ লেবাননে যদি ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর এই সীমান্ত সংঘাত অব্যাহত থাকে, তবে তা সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক শান্তি সমঝোতাকেও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত বা ভেস্তে দিতে পারে। কারণ, তেহরানের সঙ্গে হওয়া ওই মূল সমঝোতায় লেবানন ও গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি ফ্রন্টে সব ধরনের সংঘর্ষ ও প্রক্সি যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। হিজবুল্লাহ এই চুক্তির শর্ত কতটুকু মানবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নেতানিয়াহুর দাবি: লেবাননের সাথে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি ইসরাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
মার্কিন মধ্যস্থতা: ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দুই দেশের চুক্তি সই।
মাঠপর্যায়ের চিত্র: চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ চলছে।
বড় অনিশ্চয়তা: ২৬ জুনের এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি; লিতানি নদী থেকে সেনা সরানো নিয়ে ধোঁয়াশা।
ইরান ফ্যাক্টর: সংঘাত না থামলে ইরানের সাথে হওয়া শান্তি সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় ওয়াশিংটন।
বিশেষ প্রতিনিধি
দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর পরবর্তী কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি, তেল আবিবে নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যপ্রাচ্য সফরের লাইভ আপডেট এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |