| বঙ্গাব্দ

স্পিকারের দায়িত্ব শেষে রাজনীতি থেকে অবসর চান মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-06-2026 ইং
  • 63011 বার পঠিত
স্পিকারের দায়িত্ব শেষে রাজনীতি থেকে অবসর চান মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
ছবির ক্যাপশন: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

সংসদে রেফারির ভূমিকা পালন করতে চাই, ফাউল করলেই দেখাব কার্ড: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

সংসদ ও জাতীয় রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬

চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে নিজের দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন থেকে চিরতরে অবসর নিতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংসদে চলমান মেগা বাজেট অধিবেশন পরিচালনা করা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষায় তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘যমুনা টেলিভিশন’-কে দেওয়া এক একান্ত ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজের জীবনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদ হলো ফুটবল মাঠ, স্পিকার হলেন রেফারি

স্পিকার হিসেবে সংসদীয় কার্যক্রমে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মেজর হাফিজ জানান, তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ সারির সদস্য হলেও সংসদের স্পিকারের চেয়ারে বসার পর দলীয় পরিচয়ের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে থাকতে চান।

সংসদ পরিচালনার কৌশলকে একটি ফুটবল মাঠের সঙ্গে তুলনা করে স্পিকার বলেন:

"সংসদে স্পিকারের ভূমিকা হলো মূলত ফুটবল খেলার একজন রেফারির মতো। মাঠে দুই দল খেলবে, তারা যাতে কেউ কাউকে নিয়মবহির্ভূত ফাউল না করতে পারে—অথবা কেউ ফাউল করলে আমি যাতে নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ‘ইয়েলো কার্ড’ বা ‘রেড কার্ড’ দেখাতে পারি; সেই ধরনের সব মানসিক প্রস্তুতি আমার আছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, যাতে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে পারি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি চাই দলের জন্য কোনোভাবেই যেন ‘দলকানা’ না হই। কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ বোঝা বহন না করে ট্রেজারি বেঞ্চ (সরকার) এবং বিরোধী দল—উভয় পক্ষের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।"

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদের কাছে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সংসদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক গুণ বেড়েছে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো সদস্যই কারচুপির মাধ্যমে আসেননি, বরং তাঁরা প্রকৃত জনভোটের নিখাদ রায়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ফলে এই পার্লামেন্ট আগের যেকোনো সংসদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী হবে।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য কোনো পার্লামেন্টের সদস্যরা এতো ত্যাগ, রক্ত বা এতো দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসেনি, যেটি এই বর্তমান পার্লামেন্টের সদস্যরা অতিক্রম করে এসেছেন। সেজন্য আমার দৃঢ় আশা, এই পার্লামেন্ট অতীতের অন্য সব পার্লামেন্টকে কার্যকারিতার দিক থেকে ছাপিয়ে যাবে এবং জনকল্যাণে এক অভূতপূর্ব নতুন রেকর্ড গড়বে।" এখন দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই গণতন্ত্রের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেজন্য সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই সমানভাবে সচেষ্ট থাকবে।

৫৫ বছরের গৌরবময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারেও যেতে হয়েছে তাঁকে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই প্রভাবশালী সদস্য ভোলা জেলা থেকে রেকর্ড ৭ বার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি সরকারের বাণিজ্য, পানি সম্পদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন।

বর্তমানে স্পিকারের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে আসীন এই প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক বয়স প্রায় ৫৫ বছর। জীবনের এই প্রান্তে এসে তিনি অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, "এই মর্যাদাপূর্ণ পজিশনে আসতে আমাকে জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি রাজনীতিতে কোনো ধন-সম্পদ বা অর্থবিত্ত অর্জন করতে যাইনি, সেজন্য আমার মনে কোনো দুঃখ বা আক্ষেপ নাই। আল্লাহ আমাকে অন্য দিক দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন। আমার এলাকার সাধারণ মানুষ যেভাবে আমাকে যুগের পর যুগ সমর্থন ও ভালোবাসা জানিয়েছে, সেটিই আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।"

অবসরের বিষয়ে নিজের মানসিক প্রস্তুতি জানিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, "মানুষকে তো একসময় চিরতরে অবসর নিতেই হবে। আমার মনে হয় আমার জীবনেরও এখন সেই সময়টি এসে গেছে। স্পিকারের এই দায়িত্বটি সুচারুভাবে শেষ করেই আমি রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাই।"

এক নজরে স্পিকার মেজর হাফিজের সাক্ষাৎকার ও রাজনৈতিক প্রোফাইল

  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: স্পিকারের মেয়াদ শেষেই ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেবেন মেজর হাফিজ।

  • সংসদীয় নীতি: বিএনপির সদস্য হলেও সংসদে ‘দলকানা’ না হয়ে রেফারির মতো নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা।

  • সংসদের বৈশিষ্ট্য: গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ত্রয়োদশ সংসদ জনভোটের রায়ে নির্বাচিত ও ত্যাগের মাধ্যমে গঠিত

  • বীরত্ব ও ক্যারিয়ার: মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী এবং ভোলা থেকে ৭ বার নির্বাচিত সাবেক মন্ত্রী

  • জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা: কোনো অবৈধ অর্থবিত্তের পেছনে ছোটেননি; এলাকাবাসীর ভালোবাসাই জীবনের সেরা পুরস্কার

সংসদ গ্যালারি রিপোর্টার | জাতীয় রাজনীতি বিভাগ

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্ব, স্পিকারের রুলিং ও সংসদীয় কমিটির নতুন সিদ্ধান্তসমূহ, ভোলার রাজনীতিতে মেজর হাফিজের পরবর্তী উত্তরাধিকার এবং দেশের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency