আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও জ্বালানি বাজার ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত গতিতে না এগোনোর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ওপেকের (OPEC) সরবরাহ লাইনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে—ব্যবসায়ীদের এমন উদ্বেগের জেরে বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ (The Express Tribune) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.২৮ ডলারে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার সূচক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে হয় ৬৯.৮৪ ডলার।
বিশ্বখ্যাত তেলবাজার বিশ্লেষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভান্ডা ইনসাইটস’ (Vanda Insights)-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন:
"কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে ঠিকই, তবে সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল বা পূর্বানুমানযোগ্য নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী লিখিত চুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ জ্বালানি বাজারের বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ মোডেই থাকবেন। ফলে তেলের দামে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো পতনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।"
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। হোয়াইট হাউস এই সফরকে একটি ‘উচ্চপর্যায়ের’ কূটনৈতিক মিশন বলে উল্লেখ করেছে।
তবে ইরান ও কাতারের সরকারি সূত্রগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মার্কিন এই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদলটি সরাসরি কোনো ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেবিলে বসবেন না। তারা মূলত কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির উপস্থিতিতে দোহায় নিযুক্ত বিশেষ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের বার্তা ও শর্তাবলী পর্যালোচনা করবেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-জুন) মধ্যবর্তী সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪৫ ডলার পর্যন্ত কমেছে। তেল বাজারের ইতিহাসে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের (Global Financial Crisis) পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম কমেছে প্রায় ৩১ ডলার, যা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক পতন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
রয়টার্সের সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ধীরে ধীরে প্রশমিত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বৈশ্বিক আতঙ্ক অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। আর এ কারণেই ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের সার্বিক বার্ষিক তেলের মূল্য পূর্বাভাস (Price Forecast) কিছুটা কমিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
তবে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক কড়া বিবৃতিতে বলেছেন, "হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী কোনো তেলবাহী বা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের অন্যায় 'টোল' বা শুল্ক আদায় করতে দেওয়া হবে না।" তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারিতে বর্তমানে এই প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত কমে যাওয়াও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট’ (API)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যিক মজুত প্রায় ৬১ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পেট্রোলের মজুতেও। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (EIA) আজ বুধবার তাদের দেশের জ্বালানি মজুতের চূড়ান্ত সরকারি ডেটা প্রকাশ করবে, যার ওপর ভিত্তি করে তেলের দামের পরবর্তী ওঠানামা নির্ধারিত হবে।
দাম বৃদ্ধি: ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে ৭৩.২৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ৬৯.৮৪ ডলার।
মূল কারণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়া।
দোহা বৈঠক: মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাতারে বৈঠকে বসেছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
রেকর্ড পতন: জুন শেষে বিদায়ী প্রান্তিকে তেলের দাম কমেছে ৪৫ ডলার, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পতন।
আমেরিকার মজুত: ২৬ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে।
অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) এর তেলের মজুত সংক্রান্ত সাপ্তাহিক অফিশিয়াল রিপোর্ট, ওপেক (OPEC) প্লাস জোটের আগামী জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত, দোহা শান্তি চুক্তির সর্বশেষ খসড়া এবং আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পণ্যবাজারের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |