নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী (Second Anniversary) উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী মাসব্যাপী ব্যাপক ও বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা কর্মসূচি ঘোষণা করে গভীর ক্ষোভের সাথে বলেছেন, "জুলাইয়ের সেই রক্তঝরা স্মৃতি এখনো আমাদের কাছে সম্পূর্ণ টাটকা। আমাদের তরুণদের তাজা রক্ত, আহত ভাইদের আহাজারি এখনো আমাদের উদ্দীপ্ত করে ও প্রেরণা জোগায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের জাতীয় অগ্রগতি এখনো কাম্য মানের নয়।"
আজ রোববার (৫ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ জুলাই শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের সরাসরি নেতৃত্বে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
এর পর ১৮ জুলাই ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন করা হবে। পরদিন ১৯ জুলাই ইসলামী যুব আন্দোলনের উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সর্বশেষ, আগামী ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ (Fall of Dictatorship Day) উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী একযোগে সর্বস্তরের জনতাকে নিয়ে গণমিছিল করবে চরমোনাই পীরের এই দল।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাসব্যাপী জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি রক্ষার্থে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে:
জুলাই বিপ্লবে শহীদদের পবিত্র কবর জিয়ারত এবং স্বজনহারা শহীদ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ।
আন্দোলনে গুরুতর আহত ও নির্যাতিতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সাথে বিশেষ মতবিনিময়।
জুলাইয়ের মূল চেতনা ও সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বিশেষ ‘জুলাই পদযাত্রা’।
দ্রোহ ও জাগরণের জুলাই স্মরণে দেশের বুদ্ধিজীবী ও ওলামাদের নিয়ে সংলাপ এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল।
দেশজুড়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে গ্রাফিতি (দেওয়াল চিত্র) অঙ্কন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দেওয়াল লিখন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সাধারণ মানুষের সামনে ফুটিয়ে তুলতে ছাত্র আন্দোলনের দেশব্যাপী ‘জুলাই ডকুমেন্টারি’ (ভিডিও চিত্র) প্রদর্শন।
নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও লড়াইয়ের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ নিয়ে বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের সামগ্রিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার গতি অত্যন্ত ধীর। এই মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারকে জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিতে চান।
১০ জুলাই: ঢাকায় সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের নেতৃত্বে বিশাল গণমিছিল।
১৮ ও ১৯ জুলাই: ছাত্র ও যুব আন্দোলনের ব্যানারে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ও দেশব্যাপী আলোচনা সভা।
৫ আগস্ট: স্বৈরাচার পতন দিবসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশজুড়ে রাজপথে গণমিছিল।
স্মৃতি রক্ষা: তরুণদের উদ্যোগে গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেশব্যাপী জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।
সামাজিক কাজ: মাস জুড়ে শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও আহতদের আর্থিক-মানসিক মতবিনিময়।
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | জাতীয় রাজনীতি, ইসলামী দল ও সমসাময়িক সেল
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) আসন্ন রাজনৈতিক রোডম্যাপ, ১০ জুলাই ঢাকার গণমিছিলের রুট ও ট্রাফিক নির্দেশনা, দেশের নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে ইসলামী দলগুলোর সম্মিলিত জোটের ভেতরের খবর এবং জাতীয় রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |