কলকাতা ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক বিরাট ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (PMLA) আওতায় দলটির তিনটি প্রধান ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ জব্দ (ফ্রিজ) করেছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। ইডি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট ৪৪০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ জমা ছিল।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইডি জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট তিনটি এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংক হিসাবে ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা গচ্ছিত ছিল। সংস্থাটির গুরুতর অভিযোগ— দলীয় তহবিল ব্যবহার করে অত্যন্ত বড় পরিসরে এবং পরিকল্পিতভাবে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। মূল অর্থ পাচার এবং দলীয় তহবিলের অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই লেনদেনগুলোর গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। তবে ইডির এই বিশাল ও আকস্মিক অভিযানের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই অর্থ পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লির ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের (এনসিআর) মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে তল্লাশি ও ম্যারাথন অভিযান চালিয়েছে ইডি কর্মকর্তারা। জানা গেছে, যে স্থানগুলোতে হানা দেওয়া হয়েছে তার সব কটিই বিমান চলাচল (এভিয়েশন) খাতের সঙ্গে যুক্ত ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অব কোম্পানিজ’-এর সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তৃণমূলের জব্দকৃত হিসাবগুলো থেকে ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি সহযোগী কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর বা ট্রান্সফার করা হয়েছে।
ইডি-র বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা পাওয়ার পর ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন’ তাদেরই নতুন গঠিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ৮২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয়। নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে ইডি জানতে পেরেছে, এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ‘এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০’ (Embraer Legacy 600) মডেলের বিশেষ বিমান এবং ‘অগাস্টা ১০৯ এসপি’ (Agusta 109 SP) মডেলের বিলাসবহুল হেলিকপ্টার কিনতে ব্যবহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই সংস্থার তথ্যমতে, এই দুটি আকাশযান কিনতে মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাটি আরও জানায়, অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে কিছু রহস্যময় বিদেশি তহবিল বা ফরেন ফান্ডিংও ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও এর সিংহভাগ অর্থই সরাসরি তৃণমূলের ব্যাংক হিসাব থেকে এসেছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এখন এই বিদেশি তহবিলের আসল উৎস এবং এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম বা ফেমা (FEMA) আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এই পুরো আর্থিক কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত প্রকৃত লেনদেন ও আসল সুবিধাভোগীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে। কারণ, তৃণমূলের টাকায় এসব আকাশযান কেনার পরও সেগুলো আবার তৃণমূল কংগ্রেসকেই চড়া দামে ভাড়ায় দেওয়া হয় এবং ‘ভাড়া ও ব্যবহারের’ নামে আবারও দলটির অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
আপাতত এই বিপুল অর্থের উৎস, তহবিলের ব্যবহার, বিদেশি অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে হওয়া অভ্যন্তরীণ লেনদেনগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে তদন্ত করছে ইডি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে ধরপাকড় করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে জানা গেছে।
বড় অ্যাকশন: অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে তৃণমূলের ৩টি HDFC ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ইডি।
বিপুল অর্থ: জব্দকৃত অ্যাকাউন্টগুলোতে ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা ছিল বলে ইডির দাবি।
দিল্লিতে হানা: বিমান চলাচল খাতের যুক্ত ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ’-এর ৫টি স্থানে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি।
আকাশযান ক্রয়: তৃণমূলের ১৬০ কোটি টাকার বড় অংশ দিয়ে ১১২ কোটিতে কেনা হয়েছে বিমান ও হেলিকপ্টার।
বিদেশি ফান্ড: হেলিকপ্টার কেনায় বিদেশি অর্থের ব্যবহার হওয়ায় আন্তর্জাতিক উৎসের খোঁজে ইডি।
কলকাতা ব্যুরো | ভারতের রাজনীতি ২০২৬, তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও ইডি তদন্ত সেল
তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা জব্দের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, এই অর্থ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া এবং দিল্লির ইডি দপ্তরে কেয়ারওয়েল গ্রুপের কর্তাদের তলবের প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |