ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন ও স্ট্রাইকার আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের জন্য একেবারেই সাধারণ কোনো ম্যাচ হবে না। সেমিফাইনালে ওঠার তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ফরোয়ার্ড তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নিজের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের— ঠিক যেখানে আজ থেকে ২৫ বছর আগে তাঁর জন্ম হয়েছিল।
২০০০ সালে আর্লিং হালান্ডের জন্মের সময় তাঁর বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। সেই সূত্রে জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকায় হালান্ড চাইলেই থ্রি লায়ন্স তথা ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত নরওয়েকেই বেছে নেন। কেন তিনি ইংল্যান্ডের লোভনীয় প্রস্তাব ছেড়ে এই নর্ডিক দেশটির ফুটবলে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই।
বছরখানেক আগে এক সাক্ষাৎকারে হালান্ডকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কখনো কি ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়ানোর কথা ভেবেছিলেন? জবাবে এই ম্যানসিটি তারকা স্পষ্ট করে বলেছিলেন:
“আমার জীবনের শুরুর সাড়ে তিন থেকে চার বছর আমি ইংল্যান্ডে ছিলাম। তবে এরপর নরওয়েতে অনেক বেশি সময় কেটেছে এবং ওখানেই বড় হয়েছি। তাই নরওয়েকে বেছে নেওয়া আমার জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। আমি কখনো জানতে পারব না, আমার বাবা যদি ইংল্যান্ডে আরও বেশি সময় খেলতেন তাহলে কী হতো। হয়তো আমি ইংরেজ হতাম। তবে আমি নরওয়েজিয়ান এবং এটা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।”
প্রকৃতপক্ষে, হালান্ডের বাবা-মা দুজনেই খাঁটি নর্ডিক (নরওয়েজিয়ান)। ব্রিটিশ অঞ্চলে তাঁর জন্মের একমাত্র কারণ ছিল তাঁর বাবার ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার।
পারিবারিক ঐতিহ্যের দিক থেকে হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে কিন্তু নরওয়ের হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলেছেন। ১৯৩৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের দীর্ঘ ৫৬ বছর পর, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে দলের মূল স্কোয়াডে ছিলেন আলফ-ইঙ্গে। কাকতালীয়ভাবে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০২৬ সালে সেই একই দেশ অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নরওয়ে পেল তাঁরই সুযোগ্য ছেলে আর্লিং হালান্ডকে। চলতি আসরে মাত্র চার ম্যাচেই সাতটি গোল করে এই গোলমেশিন নিজেকে বিশ্বকাপের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
আগামীকাল (শনিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সুবাদে এই ম্যাচে নিজের চেনা তিন ইংলিশ সতীর্থের (জন স্টোন্স, ফিল ফোডেন ও কাইল ওয়াকার) মুখোমুখি হবেন হালান্ড, যা মাঠের লড়াইকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
ইংল্যান্ডে জন্ম: ২০০০ সালে লিডসে জন্ম নেওয়া আর্লিং হালান্ড ক্যারিয়ারে প্রথমবার জন্মভূমি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন।
নরওয়েকে বেছে নেওয়ার কারণ: জীবনের সিংহভাগ সময় নরওয়েতে কাটানোয় ইংল্যান্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে নর্ডিক দেশটিকে বেছে নেন হালান্ড।
বাবার উত্তরাধিকার: ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে খেলেছিলেন হালান্ডের বাবা, ২৮ বছর পর সেই আমেরিকার মাটিতেই খেলছেন ছেলে।
গোলমেশিনের ফর্ম: ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ ম্যাচে রেকর্ড ৭টি গোল করেছেন হালান্ড।
সিটি সতীর্থদের দ্বৈরথ: আগামীকাল রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যানসিটির ৩ ইংলিশ সতীর্থের মুখোমুখি হবেন এই স্ট্রাইকার।
ক্রীড়া ডেস্ক | ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬, আর্লিং হালান্ড নরওয়ে, ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি সতীর্থ সেল
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের সম্ভাব্য একাদশ কেমন হতে পারে, ম্যাচের আগে ইংলিশ স্কোয়াডে চোট পাওয়া তারকারা ফিট হলেন কিনা এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |