সংসদীয় প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, বেদী, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ব্যয়বহুল মূর্তি নির্মাণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সময় গণনার ডিজিটাল কাউন্টডাউন বোর্ড তৈরিসহ নানা বিতর্কিত কর্মসূচিতে সরকারের মোট কত টাকা অপচয় বা ব্যয় হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই বিপুল খরচের খতিয়ান সংসদের টেবিল উপস্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান তাঁর প্রশ্নে অর্থমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান, ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের লোকদেখানো কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবের ছবি ও বেদী তৈরি, সরকারি অফিসগুলোতে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সর্বমোট কত টাকা খরচ হয়েছে এবং জনগণের এই বিপুল অর্থ খরচের অনিয়মের বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে কিনা।
এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদী তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা, মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক সর্বমোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তাঁর এই লিখিত জবাবের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ‘মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী’র একটি বিস্তারিত ও প্রামাণ্য কপিও সংযুক্ত করে সংসদের টেবিলে পেশ করেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগই তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী মন্ত্রী, আমলা ও দলীয় ঠিকাদারদের পকেটে গেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি বানানোর নামে এবং প্রতিটি মোড়ে ডিজিটাল বোর্ড বসানোর প্রজেক্টে ব্যাপক ওভার-ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) ও হরিলুট হয়েছে।
সংসদের লবিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কয়েকজন সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই বিশাল তহবিল গঠিত হয়েছিল, সেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের রাজনৈতিক প্রচারণা ও মূর্তি বানানোর পেছনে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উধাও করে দেওয়া চরম অপরাধ। এই লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মোট ব্যয়ের পরিমাণ: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
যেসব খাতে টাকা গেছে: শেখ মুজিবের ছবি, বিতর্কিত বেদী তৈরি, ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং ডিজিটাল কাউন্টডাউন বোর্ড।
সংসদে প্রশ্ন: রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) এই খরচের খতিয়ান ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চান।
লিখিত প্রমাণ পেশ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্ত্রণালয়ভিত্তিক খরচের মূল ‘ব্যয় বিবরণী’ সংসদে পেশ করেন।
নেপথ্যে অডিট: এই বিপুল খরচের নামে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে অডিট চলছে।
সংসদ ও অর্থনীতি ডেস্ক | অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬, মুজিববর্ষের মোট খরচ, সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব, মূর্তি ও বেদী নির্মাণ ব্যয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত সেল
মুজিববর্ষের এই ৯৮২ কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে তৎকালীন কোনো কোনো সচিব বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে, কোন মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি টাকা অপচয় করেছে এবং জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |