আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনীতি ডেস্ক | সামা টিভি
সর্বশেষ আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চলমান উত্তেজনার মাঝেই ইরানের ওপর আরও বড় ও কঠোর সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি এক রহস্যময় বার্তা দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, তেহরানের সাথে আলোচনার এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) নিয়ন্ত্রণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) আমেরিকার জনপ্রিয় রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে (Hugh Hewitt) দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পূর্ববর্তী দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সময়োচিত ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের কারণেই ইরান আজ পর্যন্ত চূড়ান্ত পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) অর্জন করতে পারেনি। যদি তারা সেটি করতে পারত, তবে আমাদের পরম মিত্র ইসরাইলের অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে পড়ত।”
ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ট্রাম্প বলেন:
“আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব। আগামীকালও ঠিক একইভাবে আমাদের হামলা জারি থাকবে। তারা আমাদের এই অভিযানের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। মূলত তাদের হাতে কার্যত প্রতিরোধ গড়ার মতো কিছুই নেই। বড় বড় কথা বলা ছাড়া এই মুহূর্তে তাদের আর কোনো গতি নেই।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারের ঠিক কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানায়, হোয়াইট হাউজের সরাসরি নির্দেশনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের একাধিক কৌশলগত সামরিক অবস্থানে নতুন করে ভারী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী।
রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অত্যন্ত গোপনীয় একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেন, যার নাম ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain)—ফারসি ভাষায় যা ‘কুহ-ই কোলং’ (Kuh-e Kolang) নামে পরিচিত। এই স্থাপনাটি ইরানের বিখ্যাত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের (Natanz Nuclear Facility) ঠিক এক মাইল দক্ষিণে জাগ্রোস পর্বতমালায় অবস্থিত।
🏔️ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (Kuh-e Kolang) প্রোফাইল:
• অবস্থান: নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ১ মাইল দক্ষিণে (জাগ্রোস পর্বতমালা)।
• গভীরতা: গ্রানাইট পাথরের নিচে প্রায় ৬০০ মিটার (২,০০০ ফুট) গভীরে অবস্থিত।
• সুরক্ষাবালয়: অত্যন্ত সুরক্ষিত ২টি সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা, যা বাঙ্কার-ভেদী বোমাপ্রতিরোধী।
• পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্য: এখানে অলিখিতভাবে সেন্ট্রিফিউজ অ্যাসেম্বলি ও সমৃদ্ধকরণের কাজ চলে।
ট্রাম্প বলেন, “পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন আমাদের পরবর্তী বড় ধরনের হামলার একটি অন্যতম সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। আমরা ওই স্থাপনাটি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বলছে, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। আসলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অভ্যন্তরীণ অবস্থা একদমই ভালো নয়। যখনই আমরা এর কোনো অগ্রগতির খবর পাই, তখনই মার্কিন বাহিনী সেটি আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেয়। তাই তারা এখন এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলতে চায় না। খুব শিগগিরই আমরা পিকঅ্যাক্সেও একটি মোক্ষম আঘাত হানতে পারি। আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুঁড়িয়ে দেব। ইরানকে বলুন প্রস্তুত থাকতে।”
আন্তর্জাতিক সামরিক ও পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাটি সাধারণ কোনো ল্যাবরেটরি নয়। এটি মাটির নিচে বা গ্রানাইট পাথরের প্রায় ৬০০ মিটার (২,০০০ ফুট) গভীরে অবস্থিত দুটি সুড়ঙ্গ বা টানেল নেটওয়ার্ক দিয়ে তৈরি।
স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর ধারণা, এই স্থাপনাটির নকশা ও গভীরতা এতটাই সুরক্ষিত যে, মার্কিন বিমানবাহিনীর অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আধুনিক ‘বাঙ্কার-ভেদী বোমা’ (Buster-Bunker Bombs) দিয়েও এই সুড়ঙ্গ পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। তবে ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যে আরও বেশি তপ্ত হয়ে উঠছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |