| বঙ্গাব্দ

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের অবরোধ হুমকি; বাড়ছে তেলের দাম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-07-2026 ইং
  • 7391 বার পঠিত
বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের অবরোধ হুমকি; বাড়ছে তেলের দাম
ছবির ক্যাপশন: বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের অবরোধ হুমকি

হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি; সৌদি তেলের পথ রুখে দিতে হুথিদের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনীতি ডেস্ক

সর্বশেষ আপডেট: ২১ জুলাই, ২০২৬

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সমুদ্র অবরোধের নতুন হুমকি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কাঠামো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল স্টিফেন্স বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামরিক হামলা বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে শতভাগ নিরাপদ করা বা দ্রুত সচল করা একদমই সহজ কাজ হবে না।

তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন:

“যদি শুধু বোমা হামলা চালিয়ে এ ধরনের সরু ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপ্রণালি সহজে নিরাপদ বা উন্মুক্ত করে দেওয়া যেত, তবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থাও অনেক আগেই কেটে যেত। বাস্তবতা হলো, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন আগের চেয়ে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।”

সৌদির ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ ও বিকল্প পথের মারাত্মক ঝুঁকি

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি তাদের ঘোষিত এই অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়, তবে সৌদি আরবের বিখ্যাত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘ইয়ানবু’ (Yanbu) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির যে প্রধান বিকল্প পথটি রয়েছে, তা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

🛢️ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব:
• সরবরাহ শৃঙ্খলে ধস: বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশ সরবরাহকারী সৌদি আরবের মূল রপ্তানি পথ স্থবির হওয়ার ঝুঁকি।
• তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারে নামিয়ে আনার আশা করেন, তবে এই চলমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
• কৌশলগত মজুদের টান: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই পশ্চিমা ও এশীয় অনেক দেশ তাদের জাতীয় কৌশলগত তেল মজুদের (Strategic Petroleum Reserves) একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

ফলে এখন নতুন করে সরবরাহ সংকট ও রুট বন্ধের ঘটনা ঘটলে তেলনির্ভর পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। এ কারণে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বাধ্য হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও কৌশলগত সমীকরণ

চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের বহুমুখী সংঘাতের কারণে আগেই আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো সংকটে পড়েছিল। এ অবস্থায় ইয়েমেনের হুথিদের বাব আল-মান্দেব অবরুদ্ধ করার এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য এবং এশিয়া-ইউরোপ তেলের পরিবহন রুটকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বা দীর্ঘায়িত করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সম্ভাব্য গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency