আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনীতি ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২১ জুলাই, ২০২৬
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সমুদ্র অবরোধের নতুন হুমকি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল স্টিফেন্স বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামরিক হামলা বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে শতভাগ নিরাপদ করা বা দ্রুত সচল করা একদমই সহজ কাজ হবে না।
তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন:
“যদি শুধু বোমা হামলা চালিয়ে এ ধরনের সরু ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপ্রণালি সহজে নিরাপদ বা উন্মুক্ত করে দেওয়া যেত, তবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থাও অনেক আগেই কেটে যেত। বাস্তবতা হলো, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন আগের চেয়ে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।”
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি তাদের ঘোষিত এই অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়, তবে সৌদি আরবের বিখ্যাত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘ইয়ানবু’ (Yanbu) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির যে প্রধান বিকল্প পথটি রয়েছে, তা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
🛢️ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব:
• সরবরাহ শৃঙ্খলে ধস: বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশ সরবরাহকারী সৌদি আরবের মূল রপ্তানি পথ স্থবির হওয়ার ঝুঁকি।
• তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারে নামিয়ে আনার আশা করেন, তবে এই চলমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
• কৌশলগত মজুদের টান: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই পশ্চিমা ও এশীয় অনেক দেশ তাদের জাতীয় কৌশলগত তেল মজুদের (Strategic Petroleum Reserves) একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
ফলে এখন নতুন করে সরবরাহ সংকট ও রুট বন্ধের ঘটনা ঘটলে তেলনির্ভর পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। এ কারণে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বাধ্য হতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের বহুমুখী সংঘাতের কারণে আগেই আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো সংকটে পড়েছিল। এ অবস্থায় ইয়েমেনের হুথিদের বাব আল-মান্দেব অবরুদ্ধ করার এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য এবং এশিয়া-ইউরোপ তেলের পরিবহন রুটকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বা দীর্ঘায়িত করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সম্ভাব্য গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |