| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে পিছপা হবো না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-07-2026 ইং
  • 9714 বার পঠিত
ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে পিছপা হবো না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম
ছবির ক্যাপশন: অ্যান্ডি বার্নহাম

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েনের আভাস: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্ধভাবে ট্রাস্ট করবেন না অ্যান্ডি বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি ডেস্ক

২৬ জুলাই, ২০২০৬

যুক্তরাজ্যের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham) সাফ জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা করা হবে না। প্রয়োজন পড়লে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে এবং প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেও তিনি দ্বিধা করবেন না।

বিবিসি-র খ্যাতনামা সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গকে দেওয়া তাঁর প্রথম বড় ধরনের একক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী এই কড়া কূটনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • ট্রাম্পের সাথে দ্বিমত প্রকাশ: অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ব্রিটেনের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করবেন তিনি।

  • আস্থার প্রশ্নে নিরুত্তাপ: ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না—বিবিসি সাংবাদিকের এমন জোড়া প্রশ্নে সরাসরি ইতিবাচক উত্তর না দিয়ে কৌশলী উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি।

  • ইরান ইস্যুতে উদ্বেগ: মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

  • প্রতিরক্ষা বাজেট জট: মোট জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা রোডম্যাপ এখনই দিচ্ছেন না বার্নহাম।

ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক ও বিশ্বাসের দোলাচল

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে প্রথম টেলিফোনিক বাক্যবিনিময়কে ‘উষ্ণ ও ইতিবাচক’ অভিহিত করলেও ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা লুকাননি নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকারে বার্নহামকে দু-দুবার প্রশ্ন করা হয়—তিনি ট্রাম্পকে পূর্ণ বিশ্বাস করেন কি না। সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ না বলে বার্নহাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক উত্তর দেন:

অ্যান্ডি বার্নহাম (প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্য):

"বিশ্ব পরিবর্তনশীল এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে মোড় নেবে, আমাদের সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি এ কথা কখনোই বলতে পারবো না যে ট্রাম্পের সাথে আমার কোনো দ্বিমত থাকবে না। ব্রিটেনের জন্য যা সঠিক, তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করবো না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব।"

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রনীতির প্রধান দ্বিমত:
• মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান নীতি : ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক ভূমিকার বিপক্ষে লন্ডনের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান।
• জলবায়ু ও শক্তি সম্পদ : নর্থ সীতে নতুন গ্যাস/তেল উত্তোলনের মতো বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটনকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা।
• অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব  : ট্রাম্পের শুল্কনীতির মুখে নিজেদের বাজারের সুরক্ষায় স্বাধীন সিদ্ধান্ত।

প্রতিরক্ষা বাজেট ও চ্যান্সেলর জন হিলির চ্যালেঞ্জ

প্রতিরক্ষা বাজেটে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। ইতিপূর্বে জন হিলি কেয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার সময় হুঁশিয়ার করেছিলেন—২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট ৩ শতাংশ না করা হলে ব্রিটেনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

সেই জন হিলিকে নিজের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার) হিসেবে নিয়োগ দিলেও বার্নহাম সামরিক ব্যয় ৩ শতাংশে উন্নীত করার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ দেননি। চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট পেশ করার আগে পুরো বিনিয়োগ পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ (In-Depth Analytical Breakdown)

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                    ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন সমীকরণ                        │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • স্বতন্ত্র কূটনৈতিক অক্ষ: ওয়াশিংটনের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না দেখিয়ে         │
│   লন্ডন নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) বজায় রাখবে।  │
│ • অভ্যন্তরীণ জনমত: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার      │
│   দিয়ে সামরিক ব্যয়ের নির্দিষ্ট হিসেব মেলাচ্ছে বার্নহাম প্রশাসন।       │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

১. ট্রাম্পের 'Straight Talker' ভাবমূর্তির মুখোমুখি বার্নহাম

পেন্টাগন এবং ওয়াশিংটন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার বলেছেন যে তারা এমন কোনো মিত্র চায় না যারা অন্ধভাবে সবকিছু মেনে নেয়। বার্নহামের এই শক্ত অবস্থান বরং হোয়াইট হাউসের সাথে একটি সোজাসাপ্টা ও সৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

২. ডাউনিং স্ট্রিটের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব

যুক্তরাজ্যের দশ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলের পর অ্যান্ডি বার্নহাম কোনো আর্লি ইলেকশনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাজ্যের ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বড় পরীক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency