ক্রীড়া ও ফুটবল বিশ্ব সংক্রান্ত ডেস্ক
২৭ জুলাই, ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়-কোচদের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের রেশ এখনো কাটার লক্ষণ নেই। ফাইনাল জয়ের উল্লাসের মাঝে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালার আচরণের পর তাঁর দেওয়া ক্ষমা প্রার্থনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ও বার্সেলোনা মিডফিল্ডার দানি অলমো। আয়ালা ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
টেলিভিশন ফুটেজে স্প্যানিশ উইঙ্গার দানি অলমোর গলার কাছে হাত তুলে ধাক্কা দিতে দেখা গিয়েছিল আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ও সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার রবের্তো আয়ালাকে।
ক্ষমা প্রত্যাখ্যান: আয়ালা দাবি করেছেন অলমোর মন্তব্যের জেরেই তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান, যা অলমো মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অলমোর বক্তব্য: "কেউ যদি ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি অন্যকে দোষারোপ করে মিথ্যা বলে, তবে সে আসলে ক্ষমাপ্রার্থী নয়।"
আয়ালার যুক্তি: ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে আয়ালা জানান, ঘটনাটি 'ঘুষি' ছিল না, কেবল একটি ধাক্কা ছিল।
ফিফার তদন্ত: ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সাথে লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও আর্জেন্টাইন কোচিং স্টাফদের হাতাহাতির ঘটনায় ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলা তদন্ত (Disciplinary Investigation) শুরু করেছে ফিফা।
কাতালান পত্রিকা দিয়ারি দে তেরাসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার দানি অলমো আয়ালার আংশিক ক্ষমা প্রার্থনাকে ভন্ডামি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
দানি অলমো (মিডফিল্ডার, স্পেন ও বার্সেলোনা):
"আমি তাঁকে কিছুই বলিনি, তাই তাঁর এমন বানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কোনো দরকার নেই। আমাদের প্রকৃত পরিচয় ভুলের মধ্যে নয়, বরং বিনয়, সততা এবং মর্যাদার সঙ্গে সেই ভুল স্বীকার করার সাহসের মধ্যেই থাকে। শিশু এবং নতুন প্রজন্মের কাছে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে, যাতে তারা আমাদের আচরণ নিয়ে গর্ব করতে পারে।"
💬 রবের্তো আয়ালা (সহকারী কোচ, আর্জেন্টিনা):
• ঘটনার বিবরণ : "এটা কোনো ঘুষি ছিল না, যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এটা কেবল একটা ধাক্কা ছিল।"
• কারণ দর্শানো : "আমার মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, তবে অলমো কিছু একটা বলেছিলেন যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এমনটা ঘটেছিল।"
• ব্যক্তিক অবস্থান : "যদি তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়, আমি অবশ্যই সামনাসামনি ক্ষমা চেয়ে নেব।"
গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, ম্যাচ শেষের পরপরই দুই শিবিরের মেজাজ হারিয়ে ফেলার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়।
আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে যান এবং সরাসরি হাতাহাতিতে জড়ান। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে স্পোর্টসম্যানশিপ পরিপন্থী এমন আচরণের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত চাঙ্গা করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (FIFA)।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ফুটবলে রুলস ও স্পোর্টসম্যানশিপ │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • তারকাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা: তরুণ প্রজন্মের ওপর ফুটবলের বিশাল প্রভাব │
│ থাকায় অন-ফিল্ড সহিংসতা ও অসদাচরণকে ফিফা জিরো টলারেন্স নীতিতে দেখছে। │
│ • ফিফার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা: তদন্তের পর আয়ালা বা পারেদেসের মতো কোচ ও │
│ খেলোয়াড়দের ওপর একাধিক ম্যাচের কড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
সহকারী কোচ হিসেবে দলের খেলোয়াড়দের শান্ত রাখার দায়িত্ব যেখানে আয়ালার ওপর ছিল, সেখানে তিনি নিজেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে সংঘাত বাড়িয়ে দেন। এই কারণে কোচিং স্টাফদের প্রতি ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরো কঠোর হতে পারে।
মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে হৃদয় জয় করলেও, পরপর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সাথে এমন সংঘাতের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |