ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে ভিডিও কলে সাক্ষাৎ করেছেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শনিবার (১৫ মার্চ) ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কলে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সভার আয়োজন করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার, এবং এতে যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় ইউক্রেনের ভবিষ্যত নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কি সভায় রাশিয়ার সাথে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে শান্তিচুক্তিতে যায়, তাহলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে স্পষ্টভাবে জানান যে, ইউক্রেনকে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশসীমায় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তাদের একটি জোট গঠন করা উচিত। এই ধরনের জোট ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্মিলিতভাবে আমরা ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবো, বিশেষ করে তাদের স্থল, সমুদ্র এবং আকাশসীমায়।"
জেলেনস্কি আরও বলেন, শুধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখলেই চলবে না, বরং তা ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "নিষেধাজ্ঞা শুধু এক জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। এগুলো ক্রমাগত শক্তিশালী হতে হবে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা আরও বাড়ানো দরকার।" ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জরুরীতা তুলে ধরেছে।
জেলেনস্কি তার বক্তব্যে আরও একবার ইউরোপীয় জোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় জোটের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের সশস্ত্র বাহিনীর ভিত্তি সুদৃঢ় করা যায়। "ইউরোপীয় বাহিনীর শক্তি বাড়াতে এবং তাদের নিরাপত্তা স্থায়ী করতে মার্কিন বাহিনীর সমর্থন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মার্কিন সহায়তা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী করবে," বলেন তিনি।
জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন সহায়তার মাধ্যমে ইউরোপীয় মিত্ররা আরও শক্তিশালী হবে এবং একটি স্থায়ী শান্তির জন্য কাজ করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমর্থনযোগ্য করতে একটি আন্তর্জাতিক জোটের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট তার মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা এবং সহায়তা চেয়েছেন। ইউক্রেনের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা শুধু ইউরোপীয় দেশগুলোর উপর নির্ভরশীল নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও সমর্থনও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
এই ভিডিও কলে আলোচিত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সংগ্রাম এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বমহলে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার পাবে। ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলো একসাথে কাজ করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট গঠন করতে সক্ষম হবে যা ইউরোপের ভবিষ্যৎ সশস্ত্র বাহিনীর ভিত্তি তৈরি করবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |