অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক ডেস্ক
৩০ জুলাই, ২০২৬
ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি করে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার এক যুবককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে মানবপাচারকারী মাফিয়া চক্র। নিহত যুবকের নাম সোহাগ মুন্সী (২৭)। দফায় দফায় মোট ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) তার মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবর পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম মাতম ও আহাজারি শুরু হয়। নিহত সোহাগ রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে এবং পেশায় একজন রং মিস্ত্রী ছিলেন।
ঘটনার ধরণ: ইতালিতে পাঠানোর নামে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে বন্দি করে অমানুষিক নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং অবশেষে হত্যা।
আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি: চুক্তি অনুযায়ী শুরুতে ২২ লাখ এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে কয়েক দফায় মোট ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র।
হত্যার কারণ: অতিরিক্ত ২৭ লাখ টাকা দাবি করে ২৪ জুলাই সকাল ৮টার সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুম করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি: লিবিয়াতে আরও ১১ জন বাংলাদেশি যুবক একই মাফিয়া চক্রের কাছে জিম্মি রয়েছে। দেশে রাজৈর থানায় মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন সোহাগ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২২ লাখ টাকা চুক্তিতে তিনি বাড়ি ছাড়েন।
দালালরা তাকে প্রথমে সৌদি আরব এবং পরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে নিয়ে একটি গোপন আস্তানায় বন্দি করে ফেলে। সেখানে সোহাগের ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে কয়েক দফায় আরও ৩৮ লাখ টাকা দাবি ও আদায় করে চক্রটি।
মানবপাচারকারী চক্রের অর্থ আদায়ের হিসাব:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • প্রাথমিক চুক্তি ও বিদেশ যাত্রা : ২২ লাখ টাকা। │
│ • ব্ল্যাকমেইল ও অমানুষিক নির্যাতন : ৩৮ লাখ টাকা। │
│ • দেশে ফেরত পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস: ২ লাখ টাকা। │
│ • সর্বমোট হাতিয়ে নেওয়া অর্থ : ৬০ লাখ টাকা। │
│ • সর্বশেষ দাবিকৃত টাকা (অপ্রদেয়) : ২৭ লাখ টাকা (যার ফলে ২৪ জুলাই হত্যা)। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থানায় একটি হত্যা ও মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন:
বিমল চন্দ্র বর্মন (সহকারী পুলিশ সুপার, মাদারীপুর):
"ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই নিহতের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে চক্রটির মূল হোতারা বিদেশে অবস্থান করায় এবং দেশে থাকা সহযোগীরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় বাকিদের দ্রুত ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।"
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার জানিয়েছে, সোহাগকে হত্যার পরও ওই একই মাফিয়া আস্তানায় মাদারীপুর ও আশপাশের অঞ্চলের আরও ১১ জন বাংলাদেশি যুবক চরম জীবনঝুঁকিতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। স্বজনরা দ্রুত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহায়তায় নিহত সোহাগের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বাকি জিম্মিদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
অবৈধ মানবপাচার ও ভূমধ্যসাগরীয় রুটের ভয়াবহতা
প্রতারণার স্থায়ী ফাঁদ: লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার এই অবৈধ ট্রানজিট রুটটি (Central Mediterranean Route) বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাফিয়া ও দেশীয় দালাল সিন্ডিকেটের অর্থ উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেটওয়ার্ক নির্মূলে চ্যালেঞ্জ: মানবপাচার চক্রগুলোর প্রধান পরিচালনাকারীরা (Kingpins) লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করায় কেবল স্থানীয় এজেন্টদের ধরে এই অপরাধের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না; এজন্য ইন্টারপোল ও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার সমন্বয় জরুরি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |