তরুণদের হাত ধরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা, আদিলুর রহমান খানের মন্তব্য
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে "গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ, জাতীয় স্বার্থ ও ঐক্যের পথরেখা" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি সভায় বলেন, তরুণদের হাত ধরে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটাকে আর কখনও পথভ্রষ্ট হতে দেয়া যাবে না। তার এই মন্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্মাণে তরুণদের শক্তিশালী ভূমিকার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
আদিলুর রহমান খান তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তরুণদের ভূমিকা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "বর্তমানে যে পরিবর্তন ও উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা তরুণদের হাতেই বাস্তবায়িত হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, তরুণদের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তবে সেই পথ কখনোই বিভ্রান্তি বা পথভ্রষ্ট হতে দেয়া যাবে না।"
তিনি আরও বলেন, "দেশে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণে তরুণদের অবদান অপরিসীম। তরুণরা যদি তাদের অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টায় অবিচল থাকে, তবে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাবো।"
আলোচনা সভায় আদিলুর রহমান খান আরও বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করবে নির্বাচনের আগে এবং পরে কতটুকু সংস্কার হবে। তবে আমরা জানি, রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া সবার সহযোগিতায় সফল হতে পারে। পরিবর্তন সম্ভব, কিন্তু এর জন্য একতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।" তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি ইঙ্গিত করেন এবং সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
এছাড়া, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সচিব ডা. তাসনিম জারা সভায় অংশ নিয়ে মন্তব্য করেন যে, পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকবে কি থাকবে না, সে বিষয়ে সবার একমত থাকতে হবে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
ডা. তাসনিম জারা এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যতদিন না নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্করণ সুষ্ঠু ও মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়, ততদিন পর্যন্ত দেশের উন্নতি অসম্ভব।"
আলোচনার শেষে, আদিলুর রহমান খান বলেন, "বিপ্লবী ছাত্র সমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন একটি রাজনৈতিক পরিবেশই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। তরুণদের হাতে থাকে দেশের ভবিষ্যত এবং তাদের নেতৃত্বে আমরা এক নতুন দিগন্ত দেখতে পাবো।"
আদিলুর রহমান খান স্পষ্টভাবে বলেন যে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, এবং তারা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, তবে বাংলাদেশ আগামী দিনে এক উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আলোচনায় একত্রিত সকল নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সাধারণ জনগণ ও তরুণদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার মাধ্যমে আগামী দিনের বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়তে সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এদিনের আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্কার ও রাজনৈতিক সুশাসনের গুরুত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, তরুণরা দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে, যা দেশের ভবিষ্যতকে নিরাপদ ও উন্নত করবে।
আদিলুর রহমান খান ও অন্যান্য বক্তারা এই সভায় সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়তে রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি তরুণদের জোরালো ভূমিকা অপরিহার্য। তাদের নেতৃত্বে, একতা এবং কার্যকর রাজনৈতিক সংস্কার কার্যকর হলে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |