| বঙ্গাব্দ

বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ নাকি সালাম—ইসলামে কী বলা হয়েছে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-09-2026 ইং
  • 9607 বার পঠিত
বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ নাকি সালাম—ইসলামে কী বলা হয়েছে
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ নাকি সালাম—ইসলামে কী বলা হয়েছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারও সঙ্গে দেখা হলে যেমন আমরা সালাম দিয়ে কথা শুরু করি, তেমনি বিদায়ের সময়ও অনেকের মুখে শোনা যায় ‘আল্লাহ হাফেজ’ কিংবা ‘খোদা হাফেজ’। এসব শব্দের অর্থ কী এবং বিদায়ের সময় এগুলো বলাই যথেষ্ট কি না—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি শিক্ষায় বিদায়ের ক্ষেত্রেও সালামের গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে কারও জন্য আল্লাহর হেফাজত ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করাও বৈধ। তাই ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা এবং সালামের বিধান—দুটিকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎ ও বিদায়ের সময় সালাম

ইসলামে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সালাম দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সালামের মাধ্যমে একজন মুসলিম অন্যের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও আল্লাহর রহমত কামনা করেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মজলিসে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে উঠে যাওয়ার সময়ও সালাম দেওয়ার কথা বলেছেন। হাদিসটি তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, সাক্ষাতের শুরুতে সালাম দেওয়ার মতো বিদায়ের সময় সালাম দেওয়ারও সুন্নতি গুরুত্ব রয়েছে।

‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার অর্থ কী?

‘আল্লাহ হাফেজ’ অর্থ—আল্লাহ আপনার হেফাজত করুন বা আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন। ‘খোদা হাফেজ’-এর অর্থও একই ধরনের কল্যাণকামনামূলক দোয়া।

বিদায়ের সময় কারও জন্য আল্লাহর নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে এ ধরনের কথা বলা নিষিদ্ধ নয়। অর্থাৎ সালামের পাশাপাশি ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা দোয়া হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

তবে বিষয়টি হলো, ‘আল্লাহ হাফেজ’কে সালামের বিকল্প মনে করা ঠিক নয়।

সালামের বদলে শুধু ‘আল্লাহ হাফেজ’?

ইসলামি দৃষ্টিতে বিদায়ের সময় সালাম দেওয়া সুন্নত। তাই সালামের প্রচলন বাদ দিয়ে শুধু ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে বিদায়ের নির্ধারিত সুন্নতি পদ্ধতি হিসেবে মনে করা উচিত নয়।

অর্থাৎ কেউ বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বললে সেটি দোয়া হিসেবে বলা হতে পারে। কিন্তু সুন্নত পালনের ক্ষেত্রে সালামের গুরুত্ব আলাদা। ফলে দুটিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখা সমীচীন নয়।

কীভাবে বিদায় নেওয়া উত্তম?

বিদায়ের সময় প্রথমে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম দেওয়া যেতে পারে। এরপর ভালোবাসা ও কল্যাণকামনা প্রকাশের জন্য ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা যেতে পারে।

ইসলামে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আমলও গুরুত্বপূর্ণ। সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়ে। তাই বিদায়ের সময়ও সালামের সুন্নতকে জীবিত রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আল্লাহর হেফাজতের জন্য দোয়া করা উত্তম।

সূত্র: হাদিস ও ইসলামি শিক্ষাভিত্তিক তথ্য

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency