সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল করতে ভুটানের পূর্ণ সহায়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভুটানের প্রতিনিধি দলকে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। আঞ্চলিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংযোগ জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থবির হয়ে পড়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে পুনরায় কার্যকর করার স্বার্থে দুই দেশ যৌথভাবে উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং সার্কের নিষ্ক্রিয়তা দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন: সার্কের নিয়মিত কার্যক্রম ও স্থগিত থাকা শীর্ষ সম্মেলন পুনরায় শুরু করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে আলোচনা করা হয়।
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত বাণিজ্য: ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি এবং উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-ভুটান যৌথ যৌথ কৌশল বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
জলবায়ু ও পরিবেশগত পদক্ষেপ: হিমালয় ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশ একযোগে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।
এক নজরে বাংলাদেশ-ভুটান বৈঠক
স্থান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা
প্রধান বিষয়: সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার
অংশগ্রহণকারী: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ভুটানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল
মূল উদ্দেশ্য: বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও জলবিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণ
উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিস্তার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল সার্ক নয়—বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) অর্থনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে সড়ক ও ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ভুটানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সহজে বাণিজ্য পরিচালনার সুযোগ বৃদ্ধির প্রশংসা করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্থবিরতা কাটানোর যৌথ প্রত্যাশা
বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, সার্ককে সক্রিয় করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংস্থাকে কার্যকর করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে উভয় পক্ষ।